ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ তাদের আশির দশকের রণকৌশলে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইসরায়েলকে লেবাননে ঘাঁটি স্থাপনে বাধা দেওয়ার লক্ষ্যে এই গোষ্ঠীটি আবারও তাদের আত্মঘাতী স্কোয়াড সক্রিয় করার কথা জানিয়েছে।সোমবার কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সামরিক নেতা বলেছেন, তারা পুনরায় আশির দশকের রণকৌশলে ফিরে যাবেন এবং ইসরায়েলকে লেবাননে ঘাঁটি গড়তে বাধা দেওয়ার জন্য আত্মঘাতী স্কোয়াড সক্রিয় করবেন।দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে থাকা ভূখণ্ডের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, ‘‘পূর্ব-পরিকল্পিত ছক অনুযায়ী অধিকৃত অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী মোতায়েন করা হয়েছে।’’হিজবুল্লাহর ওই নেতা বলেন, ‘‘অধিকৃত লেবাননের গ্রামগুলোতে অবস্থানরত শত্রুপক্ষের কর্মকর্তা ও সৈন্যদের ওপর হামলা চালানোই এই আত্মঘাতী হামলাকারীদের লক্ষ্য।এদিকে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কার্যালয় লেবানন যুদ্ধ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনার বিষয়ে দেশটির সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট জোসেফ বলেছেন, ‘‘আমরা মধ্যস্থতাকারী মার্কিন পক্ষকে শুরু থেকেই অবগত করেছি, ইসরায়েলের সঙ্গে পরবর্তী যেকোনও আলোচনার জন্য যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য প্রথম পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও বিষয়টি স্পষ্টভাবে বলেছে।’’মার্কিন বিবৃতির বরাত দিয়ে তিনি বলেছেন, ইসরায়েল লেবাননের ভূখণ্ডে আকাশ, স্থল বা নৌপথে কোনও ধরনের আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান চালাবে না। এর মধ্যে বেসামরিক, সামরিক এবং রাষ্ট্রীয় লক্ষ্যবস্তুও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।তিনি বলেন, এটিই লেবাননের আনুষ্ঠানিক অবস্থান। দেশের ভেতরে অন্য কোনও গোষ্ঠী যদি এর বিপরীত বিবৃতি দেয়, তাহলে সেটির কোনও বৈধতা নেই। হিজবুল্লাহর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি এই মন্তব্য করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।কিছুক্ষণ আগে হিজবুল্লাহর এক নেতা ইসরায়েলের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে হিজবুল্লাহ।হিজবুল্লাহকে ইরানের প্রক্সি হিসেবে অভিযুক্ত করে জোসেফ আউন বলেন, আমরা যা করছি তা রাষ্ট্রদ্রোহ নয়; বরং রাষ্ট্রদ্রোহ তারাই করছে যারা বিদেশি স্বার্থ হাসিলের জন্য নিজ দেশকে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দেয়।সূত্র: আল জাজিরাএবি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
