ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে মো. মিজান (৩২) গত ছয় মাস ধরে নিখোঁজ। মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আর ফেরেননি তিনি। স্বামীর ফেরার পথ চেয়ে থাকতে থাকতে এখন ক্লান্ত স্ত্রী রোজিনা বেগম। এখন স্বামীর শোকের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে তিন সন্তানের ক্ষুধা আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।নিখোঁজ মিজান ওই এলাকার নান্নু মোল্লার ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। গত বছরের অক্টোবর মাসে প্রতিদিনের মতো জাল-নৌকা নিয়ে নদীতে গিয়েছিলেন মিজান। কিন্তু সেই যাওয়াই ছিল তার শেষ যাওয়া। এরপর অনেক তল্লাশি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার।সরেজমিনে হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নে মিজানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক বিষণ্ণ চিত্র। জীর্ণ ঘরে তিন কন্যাসন্তান ফাতেমা, আয়েশা ও বিবি পাবিয়াকে নিয়ে অভাবের সঙ্গে লড়াই করছেন রোজিনা। মেজাজ হারিয়ে ফেলা দারিদ্র্য এখন তাদের নিত্যসঙ্গী।রোজিনা বেগম বলেন, ‘ছয় মাস ধরে মানুষজন যা সাহায্য দিছে, তা দিয়ে কোনোমতে টিকে আছি। কিন্তু এখন আর কেউ আগের মতো এগিয়ে আসে না। বড় মেয়ে ফাতেমার বয়স ১৩ বছর। একদিকে ঘরে খাবার নেই, অন্যদিকে বড় হওয়া মেয়েটাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা—সব মিলিয়ে আমি এখন অন্ধকার দেখছি।’প্রতিবেশীরা জানান, মিজান ছিলেন একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ। তার আকস্মিক নিখোঁজ হওয়ার পর গ্রামবাসী শুরুতে সাধ্যমতো সহায়তা করলেও সময়ের সাথে সাথে সেই প্রবাহ কমে গেছে। পরিবারটি এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।এদিকে, নিখোঁজ হওয়ার ছয় মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো বড় ধরনের সহায়তা পৌঁছেনি এই পরিবারের কাছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য বলে অভিযোগ পরিবারের।উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুন হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। পরিবারটির বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে সমাজসেবা দপ্তর থেকে দ্রুতই প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, নিখোঁজ জেলের যদি সরকারি ‘জেলে কার্ড’ থাকে, তবে নিয়ম অনুযায়ী তার পরিবার বড় অংকের আর্থিক অনুদান ও পুনর্বাসনের সুযোগ পাবে। আমরা বিষয়টি যাচাই করে দেখছি।তবে সরকারি দপ্তরের এই আশ্বাস কবে বাস্তব রূপ পাবে, সেই অপেক্ষায় দিন গুনছেন রোজিনা। আপাতত তিন মেয়ের মুখে দু’বেলা দুমুঠো ভাত তুলে দেওয়াই তার জীবনের সবচেয়ে বড় সংগ্রাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
