মহান মুক্তিযুদ্ধের পর জন্ম নেওয়া যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহারের আর্তনাদ এখনও থামেনি। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও অবহেলা আর বঞ্চনার বেড়াজাল ভাঙতে পারেননি শামসুন্নাহার বেগম। গেজেটেড বীরাঙ্গনা মাজেদা বেগমের কন্যা শামসুন্নাহার হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আদাউর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালেও সাক্ষ্য দিয়েছেন।জন্মপরিচয়ের কারণে ছোটবেলা থেকেই সমাজের অবহেলা, ঘৃণা ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন তিনি। যুদ্ধশিশু পরিচয়ের কারণে কেউ তাকে বিয়ে করেনি। ফলে নিঃসঙ্গতা, দারিদ্র্য আর সামাজিক অপমান তার জীবনকে করে তুলেছে দুর্বিষহ। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মনোদৈহিক সমস্যায় ভুগছেন। পাশাপাশি গলায় জটিল রোগে আক্রান্ত হলেও চিকিৎসার কোনো সামর্থ্য নেই তার।সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে। পারিবারিক বিরোধ ও সামাজিক চাপের মুখে মারধর করে সৎ ভাই তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর থেকে তিনি মাধবপুরের মনতলা রেলওয়ে স্টেশনের পাশে একটি মন্দিরের কাছে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক সময় না খেয়েই দিন কাটাতে হচ্ছে তাকে।তার এই করুণ অবস্থার কথা জানিয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সমাজসেবা অফিসে একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখনো কোনো কার্যকর সহায়তা পাননি তিনি।এ বিষয়ে মাধবপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেখান থেকেও কোনো সহায়তা মেলেনি।শামসুন্নাহার বেগম বলেন, ‘রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত কেউ আমার পাশে দাঁড়ায়নি। বাড়ি ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পেলেও বাস্তবে কিছুই পাইনি। আমি আজ ঘরহীন। আমার জীবনটা কেন এমন হলো, তা সবাই জানে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী বিশ্বজিৎ পাল বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হয়েছে, কিন্তু শামসুন্নাহারের কষ্ট শেষ হয়নি। তিনি অনাহারে, বিনা চিকিৎসায় দিন কাটাচ্ছেন। এটি আমাদের রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’সংশ্লিষ্টদের মতে, শামসুন্নাহারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা, নিরাপদ আশ্রয়, সামাজিক ও পারিবারিক পুনর্বাসন, আইনগত সহায়তা এবং আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
