বরগুনার তালতলী উপজেলার করাইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক বাচ্চুর বিরুদ্ধে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।এরআগে গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) করাইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মো. রেদওয়ান সরদার, খলিলুর রহমান, পিযুষ কান্তি হাওলাদার, পুলুকেশ মজুমদার, মনির গাজী ও সংরক্ষিত নারী সদস্য মাহমুদা আক্তার বাদী হয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছে ৮৭৯৯ জন এর মধ্যে করাইবাড়িয়া ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলে রয়েছে ৭৬৫ জন।জানা যায়, উপজেলার করাইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে জাটকা আহরণে বিরত থাকা জেলেদের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য জেলে পরিবারের অনুকূলে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত জেলে প্রতি মাসে ৪০ কেজি হারে ফেব্রুয়ারী-মার্চ দুই মাসের জন্য ৪১৮ জন জেলে কার্ডের অনুকূলে ৩৩ টন ৪৪০ কেজি চাল ও এপ্রিল-মে দুই মাসের জন্য ৪১৮ জন জেলে কার্ডের অনুকূলে ৩৩ টন ৪৪০ কেজি চাল বরাদ্দ পায়। পরে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে করাইবাড়িয়া ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক বাচ্চুর উপর অর্পিত ক্ষমতা বলে বিলি আদেশ (ডিও) তে স্বাক্ষর করে বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলন করেন। এরপর উত্তোলনকৃত চাল ওই ইউপির জন্য নিযুক্ত ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মাদ আল-আমিনের উপস্থিতিতে ইউপির ৭৬৫ জন জেলের মধ্যে ৬১ টন ২০০ কেজি চাল বিতরণ করা হয়। আর বাকি ৭১ জেলে কার্ডের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ৫ টন ৬৮০ কেজি চাল প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক বাচ্চুর বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন ইউপির সংরক্ষিত ও সাধারণ ৬ ইউপি সদস্য। এ ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।ইউপি সদস্য মো. রেদওয়ান সরদার, খলিলুর রহমান, পিযুষ কান্তি হাওলাদার, পুলুকেশ মজুমদার, মনির গাজী ও সংরক্ষিত নারী সদস্য মাহমুদা আক্তার বলেন, “করাইবাড়িয়া ইউনিয়নে মোট নিবন্ধিত ৭৬৫ জন জেলে রয়েছেন। দুই ধাপে বরাদ্দ এসেছে ৮৩৬ জেলে কার্ডের অনুকূলে ৬৬ টন ৮৮০ কেজি চাল। কিন্তু প্যানেল চেয়ারম্যান মোট ৭৬৫ জন জেলেকে ৮০ কেজি করে চাল বিতরণ করে অবশিষ্ট ৭১ জন জেলে কার্ডের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ৫ টন ৬৮০ কেজি চাল আত্মসাত করেছেন। আমরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করছি।”অভিযোগ অস্বীকার করে মো. ফজলুল হক বাচ্চু বলেন, “আমি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করব। এইজন্য একটি গ্রুপ ষড়যন্ত্র করছে। আমি প্রতি জেলেকে ৮০ কেজি করে চাল বিতরণ করেছি”করাইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. খলিলুর রহমান বলেন, “চাল দেওয়ার বিষয়ে আমাকে জানায়নি। এখন পর্যন্ত চাল বিতরণের মাষ্টার রোল আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।”এবিষয়ে তালতলী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মাদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের একটি অভিযোগ পেয়েছি। এবিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্তের দ্বয়িত্ব দিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
