টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীর জমি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগে অভিযুক্ত স্থানীয় বিএনপি নেতাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করলেও তাকে গ্রেফতার না করায় জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নে পরিচালিত অভিযানে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে অভিযুক্ত মো. আব্দুস সালাম (৫৫) কে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান। তবে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় গ্রেফতার না করায় সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযুক্ত আব্দুস সালাম নিকরাইল ইউনিয়নের পলশিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। অভিযানের সময় ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাব্বির রহমান, গ্রাম আদালতের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মো. আকতারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।অভিযোগ রয়েছে, নিকরাইল ইউনিয়নের পলশিয়া গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী ফরিদা খাতুন-এর একমাত্র কৃষিজমি প্রায় দুই বছর ধরে জোরপূর্বক দখলে রেখে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করে আসছিলেন সালাম ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় বিএনপির আরও দুই স্থানীয় নেতা- ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব ও আ. মোন্নাফের নামও উঠে এসেছে।ভুক্তভোগীর অভিযোগ, জমিতে বাধা দিতে গেলে তার ও পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি, তার ভাই এবং ভাইয়ের মেয়ে আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় গত ২০ এপ্রিল ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ এবং ২২ এপ্রিল থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।পরে বুধবার বিকালে ‘প্রতিবন্ধী নারীর জমি দখল করে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে’ শিরোনামে সময়ের কণ্ঠস্বরে একটি ভিডিও প্রকাশিত হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ভিডিওতে ফরিদা খাতুন অভিযোগ করেন, তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। এমনকি ইউএনও, এসিল্যান্ড স্যারকে নিয়েও অভিযুক্তরা আপত্তিকর মন্তব্য করে এবং অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে।এর আগে ২১ এপ্রিল ভুক্তভোগী ফরিদা খাতুন-কে নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে ভুক্তভোগীকে নতুন করে হুমকি দেওয়া হয়। ফলে আত্মরক্ষার তাগিদে নিজ বাড়ি ছেড়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন ফরিদা। তার আশঙ্কা, যেকোনো সময় আবার হামলা হতে পারে এবং সেই প্রস্তুতি নিয়েই অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. আব্দুস সালাম ও তার সহযোগীরা এলাকায় অবস্থান করছে।সূত্র জানায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগ আমলে নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ কার্যকরভাবে গ্রহণ না করে ভূঞাপুর থানার ওসি কৌশলে বিষয়টিকে শুধুমাত্র ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এমন গুরুতর অভিযোগ চললেও প্রভাবশালীদের কারণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ অভিযুক্তকে সামনে পেয়েও গ্রেফতার না করায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এতে অভিযুক্তরা কার্যত আইনের কঠোরতা এড়িয়ে গিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।এ বিষয়ে জানতে বুধবার রাতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন ফরিদা খাতুন। তিনি সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘ইউএনও স্যার যাওয়ার পর থেকেই আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। বলছে- তোদের মেরে আবার জরিমানা দেব। সারাদিন কিছু খাইনি, বাড়িতেও যাইনি। এখন অন্যের বাড়িতে আছি।’প্রতিবন্ধী ফরিদার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার বোন, নিকরাইল ইউনিয়ন বিএনপির সভানেত্রী ময়মনা বেগম। তিনি বলেন, ‘অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা আতঙ্কে রয়েছি। আমরা আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি। তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’ এ বিষয়ে একাধিকবার ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাব্বির রহমানকে ফোন করলে কোনো সাড়া দেননি।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে অভিযুক্ত আ. সালামকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধী ফরিদার জমির সব কাগজপত্র যাচাই করে আইনবিধি অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া ভুক্তভোগী নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে, এমন অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
