রাশিয়ার তেল হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় সরবরাহের জন্য পাইপলাইনের মাধ্যমে পাম্প করা শুরু করেছে ইউক্রেন। এর ফলে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ ৯০ বিলিয়ন ইউরো (৭৮ বিলিয়ন পাউন্ড) ঋণ পাচ্ছে দেশটি।বুধবার (২২ এপ্রিল) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাসেলসে বৈঠকে বসা ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা এই ঋণ এবং রাশিয়ার ওপর ২০তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের প্রাথমিক অনুমোদন দেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আগামী বৃহস্পতিবার সাইপ্রাসে অনুষ্ঠিতব্য অনানুষ্ঠানিক সম্মেলনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা এই সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন।গত ডিসেম্বরেই এই তহবিলের বিষয়ে ঐকমত্য হলেও ফেব্রুয়ারিতে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ভেটো দেন। তিনি দাবি করেছিলেন, ইউক্রেন-রাশিয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন মেরামত না হওয়া পর্যন্ত তেল সরবরাহ পুনরায় চালু না হলে ঋণ দেয়া যাবে না।রাষ্ট্রদূতদের বৈঠক শুরুর কয়েক ঘণ্টা পর ইউক্রেনের সরকারি সূত্র হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার কর্মকর্তাদের জানায়, পাইপলাইনে তেল পাম্পিং পুনরায় শুরু হয়েছে। অরবান শর্ত দিয়েছিলেন, তেল সরবরাহ পুনরায় শুরু হলেই তিনি ঋণ অনুমোদনে বাধা দেবেন না। ইউক্রেনও নিশ্চিত করেছে, মঙ্গলবার পাইপলাইন মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে।গত রোববার নির্বাচনে অরবানের পরাজয়ও পরিস্থিতি সহজ করেছে। টানা ১৬ বছরের অরবান শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন নেতা পিটার মাজার ব্রাসেলসের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কাল্লাস বলেন, ‘ইউক্রেনের এই ঋণ অত্যন্ত প্রয়োজন এবং এটি প্রমাণ করে যে রাশিয়া ইউক্রেনকে পরাজিত করতে পারবে না।’ ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী তারাস কাচকা এই তহবিলকে “জীবন-মরণের প্রশ্ন” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই ঋণের দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় হবে এবং বাকি অংশ অন্যান্য আর্থিক সহায়তায় ব্যবহৃত হবে। স্লোভাকিয়ার অর্থনীতি মন্ত্রী ডেনিসা সাকোভা জানান, ইউক্রেনের পাইপলাইন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, বুধবার সকালে পাইপলাইনে চাপ প্রয়োগ শুরু হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার থেকে স্লোভাকিয়ায় তেল সরবরাহ শুরু হবে।তেল সরবরাহের পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে ইউক্রেন সরকারের এক সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে তেল পরিবহন শুরু হয়েছে। হাঙ্গেরির জ্বালানি প্রতিষ্ঠান মল জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তারা প্রথম চালান পাওয়ার আশা করছে। নির্বাচনের আগে অরবান ইউক্রেনকে “তেল অবরোধ” করার অভিযোগ করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনের সঙ্গে মিলে তার দেশের বিরুদ্ধে কাজ করছে।স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, জানুয়ারির শেষ দিকে ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলের ব্রোডিতে একটি বড় তেলের ট্যাংকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ইউক্রেন দাবি করে, রাশিয়ার হামলার কারণে মেরামতে সময় লেগেছে এবং কাজের সময় প্রকৌশলীরা হামলার মুখেও পড়েন। এদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরেও তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে সামারা অঞ্চলের একটি পাম্পিং স্টেশন রয়েছে, যা দ্রুঝবা পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত সামারা অঞ্চলের একটি পাম্পিং স্টেশনও রয়েছে।ইউক্রেনকে ৯০ বিলিয়ন ইউরো ঋণ দেয়ার বিষয়ে গত ডিসেম্বরের চুক্তি থেকে অরবানের সরে আসার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন ইইউ নেতারা। অরবানকে দীর্ঘদিন ধরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দেখা হয়, তিনি তার নির্বাচনি প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইইউ উভয়ের প্রতি তাকে বৈরিতাকে সামনে রেখেছিলেন।মঙ্গলবার জেলেনস্কি বলেন, তিনি ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধান আন্তোনিও কস্তার সাথে ঋণটি কীভাবে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করা হবে তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।জেলেনস্কি বলেন, এটি আর আটকে রাখার কোনো কারণ থাকতে পারে না। ইইউ ইউক্রেনকে দ্রুঝবা তেল পাইপলাইন মেরামত করতে বলেছিল, যা রাশিয়া ধ্বংস করে দিয়েছিল। আমরা তা মেরামত করেছি। আমরা আশা করি ইইউ-ও তার প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করবে।সূত্র: বিবিসি এবি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
