রাত পোহালেই শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা। কিন্তু একদিন আগেও পরীক্ষার প্রবেশপত্র হাতে পায়নি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ও ফুলছড়ি উপজেলার তিনটি স্কুলের অর্ধশতাধিক পরীক্ষার্থী। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন এসব পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।সর্বশেষ সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের বারান্দায় প্রবেশপত্র পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে তাদের মধ্য থেকে বেশ কয়েকজনকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফুলছড়ি উপজেলার জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়, কঞ্চিপাড়া এম ইউ একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় এবং পলাশবাড়ী উপজেলা সদরের গৃরিধারীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী প্রবেশপত্র পায়নি। এরমধ্যে জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৬ জন, গৃরিধারীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৯ জন রয়েছেন।অন্যদিকে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এম ইউ একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫০ জন পরীক্ষার্থীর হাতে ভুলে ভরা প্রবেশপ্রত্র দেওয়া হয়েছে। এসব প্রবেশপত্রে কারো বিজ্ঞান বিভাগের স্থানে মানবিক বিভাগ, কারও ছেলে পরীক্ষার্থীর স্থলে মেয়ের ছবি, আবার কারো মা বা বাবার নাম ভুল। আবার কিছু পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র এখনও পায়নি।সোমবার বিকেলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিয়াম, আরেফা খাতুন, জিহাদ ও জুঁই বলেন, আগামীকাল পরীক্ষা। এখন থাকার কথা আমাদের পড়ার টেবিলে। কিন্তু আমরা পরীক্ষার প্রবেশপত্রের জন্য সকাল থেকে এখানে (ইউএনও)’র অপেক্ষা করছি। প্রবেশপত্র এখনও হাতে পাইনি। বুঝতে পারছি না আদৌ আমরা পরীক্ষা দিতে পারবো কিনা।পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আসা একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল আহসান সোহেল ও অফিস সহকারী নাঈম মিয়ার গাফলতি এবং অবহেলার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতগুলো শিক্ষার্থীর জীবন হুমকির মধ্যে পড়েছে।জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি শাহ আলম সরকার বলেন, ৩-৪দিন দিন আগে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র দেওয়া হয়। তখন এই ৩৬ জন শিক্ষার্থী বিষয়টি অবগত হয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী নাঈম মিয়া প্রবেশপত্র বোর্ড থেকে প্রবেশপ্রত্র নিয়ে আসার কথা বলে তাদের কাছ থেকে দফায় দফায় টাকা আদায় করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রবেশপত্র নিয়ে আসেননি।জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল আহসান সোহেল ও অফিস সহকারী নাঈম মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।তবে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোক্তার আলী জানান, পরীক্ষার আগে এই শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র হাতে পাবে। এমনটাই তাদেরকে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল আহসান সোহেল ও অফিস সহকারী নাঈম মিয়া।ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এম ইউ একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার জানান, সকল পরীক্ষার্থী যেন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া ছোট ছোট ভুলগুলোও সমাধান করা হচ্ছে।পলাশবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সেকশন অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, আজ রাতের মধ্যে সকল শিক্ষার্থী প্রবেশপত্র হাতে পাবেন।পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেওয়া হচ্ছে।ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
