ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের দিগন্তজোড়া মাঠ এখন সোনালি আভায় উজ্জ্বল। বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে দোল খাচ্ছে কাঁচা-পাকা ধানের শীষ। রোদ আর হালকা বাতাসে যেন এক নীরব উৎসবের প্রস্তুতি চলছে গ্রামজুড়ে। উপজেলার কিছু অংশে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হলেও, অধিকাংশ এলাকায় আর কয়েক দিনের মধ্যেই পুরোদমে শুরু হবে ধান কাটার উৎসব। তবে এই প্রত্যাশার মাঝেও কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে কালবৈশাখীর আগাম পূর্বাভাস ও শ্রমিক সংকট।চলতি মৌসুমের শুরুতে কিছুটা তাপপ্রবাহের কারণে ধানের শীষ বের হওয়ার সময় ‘চিটা’ পড়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে তা অনেকটাই কেটে গেছে। বর্তমানে ধানগাছ সতেজ এবং দানা বেশ পুষ্ট হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে এসে প্রকৃতি শিলা বৃষ্টি ক্ষতি না করে এই প্রার্থনা এখন সবার মুখে।আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক কামরুল হাসান বলেন, কয়েক দিন ধরে খুব ভয়ে আছি। দিনরাতে হুটহাট ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। এখনো বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। আর কয়েকটা দিন আবহাওয়া ভালো থাকলে এবার ফলন নিয়ে চিন্তা নেই।কৃষকদের মতে, হালকা বৃষ্টি ধানের জন্য এখন উপকারী হলেও কালবৈশাখীর দমকা হাওয়ায় ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়লে বড় লোকসানের মুখে পড়তে হবে তাদের। এদিকে ফলন ভালো হলেও কৃষকদের ভাবিয়ে তুলেছে ধান কাটার শ্রমিক। স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় বাইরের এলাকার শ্রমিকের ওপর নির্ভর করতে হয় যা চাষিদের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়।মোক্ষপুর ইউনিয়নের কৃষক আজিজুল হক আক্ষেপ করে বলেন,ঠিক সময়ে শ্রমিক পাওয়া দায়। যারা আসে তারা অতিরিক্ত মজুরি চায়। সময়মতো ধান কাটতে না পারলে আবার ঝড়ে নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে বাড়তি মজুরি নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তা। ত্রিশাল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ত্রিশালে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত মাঠের অবস্থা অত্যন্ত সন্তোষজনক।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া রহমান বলেন, ধান এখন পাকার শেষ পর্যায়ে। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি যেন ৮০ শতাংশ পেকে গেলেই ধান কেটে ফেলা হয়। ঝড়ের পূর্বাভাস পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর উপজেলায় বাম্পার ফলন অর্জিত হবে। এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
