মৌসুমের শুরুতেই কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় বজ্রসহ শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় চার হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। ফসল হারানোর শঙ্কায় কৃষকদের কপালে এখন দুশ্চিন্তার ভাঁজ।বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেল ও রাতে দুই দফায় হওয়া শিলাবৃষ্টিতে হাওর অধ্যুষিত ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলীসহ জেলা সদর, পাকুন্দিয়া, হোসেনপুর, কটিয়াদী ও ভৈরব উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলেই ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মিঠামইন উপজেলায়, যেখানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইটনায় ৯৮৬ হেক্টর, অষ্টগ্রামে ১৪০ হেক্টর, নিকলীতে ১০০ হেক্টর, পাকুন্দিয়ায় ১২০ হেক্টর, হোসেনপুরে ১০ হেক্টর, কুলিয়ারচরে ৬ হেক্টর এবং ভৈরবে ২ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।কৃষি কর্মকর্তারা জানান, চৈত্র মাসে ধানগাছে থোড় বের হওয়ার সময় এমন শিলাবৃষ্টি বোরো উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এতে চলতি মৌসুমে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।অষ্টগ্রাম উপজেলার পাটাচাপড়া গ্রামের কৃষক রহিম মিয়া বলেন, ‘কিছুদিন আগেও ভালো ফলনের আশা ছিল। কিন্তু শিলাবৃষ্টিতে আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে।’ইটনা উপজেলার খালপাড়া গ্রামের কৃষক আমির হোসেন বলেন, ‘শিলাবৃষ্টিতে আমরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, বুঝতে পারছি না।’কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির এলাকা পরিদর্শন করা হচ্ছে।এদিকে নিকলী আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার রাতে সেখানে ১৯ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে শিলাবৃষ্টিও হয়েছে।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
