কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে কাঁচা মরিচের বাজারে ধস নেমেছে। অথচ এক মাস আগেও দাম ছিল ২০০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি। হঠাৎ বাজার দর কমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন অনেক কৃষক। বাজারে এক কাপ দুধ চায়ের দাম ১০ টাকা। সেই হিসেবে দুই কাপ চায়ের দামে এক কেজি কাঁচা মরিচ কেনা যাচ্ছে।ব্যবসায়ী ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় বাজারে বেশি সরবরাহ থাকায় মরিচের বাজারে ধস নেমেছে। জমিতে নতুন চাষাবাদ করার জন্য সবাই একসঙ্গে মরিচ বিক্রি করে দিচ্ছেন—এটাও মূল্য ধসের বড় একটি কারণ।সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে জালালপুর ইউনিয়নের নদীর বাঁধ পাইকারি হাটে ভালো মানের কাঁচা মরিচের দাম ছিল ২০ টাকা কেজি। প্রতি মণ দাম ছিল ৮০০ টাকা। এছাড়াও বাজিতপুর উপজেলার বৃহৎ সবজির হাট পিরিজপুরেও একই দাম দেখা গেছে। সেখানেও প্রচুর পরিমাণ কাঁচা মরিচ উঠেছে।সরেজমিনে হাট ঘুরে দেখা যায়, প্রচুর পরিমাণ কাঁচা মরিচের আমদানি। কৃষকরা বস্তাভর্তি কাঁচা মরিচ নিয়ে বসে আছেন। মাঝে মধ্যে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসে কেজিপ্রতি ২০ টাকার বেশি বলছেন না। সেই হিসেবে প্রতি মণ মরিচ ৮০০ টাকা। দামের এই বড় দরপতনে অনেক কৃষকের হতাশা প্রকাশ পেতে দেখা যায়। কোনো কোনো কৃষকের যানবাহন খরচও উঠছে না।ফেকামারা গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, “আমি ২০ শতাংশ জমিতে এবার মরিচ চাষ করেছি। আজ প্রথম মরিচ তুলে বিক্রি করতে এসে দাম শুনে হতাশ। ঔষধ ও অন্যান্য পরিচর্যা মিলিয়ে এমন দামে উৎপাদন খরচও উঠবে না।”পাশ্ববর্তী মনোহরদী উপজেলার চরমান্দালিয়া গ্রামের কৃষক বাদশা মিয়া বলেন, “পাঁচ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষ করেছি। প্রথম দিকে ভালো দাম পেয়েছি। এখন গাছ তুলে অন্য চাষাবাদ করব। এজন্য মরিচ নিয়ে এসেছি। আমার মতো অনেকেই শেষ দিকে সব মরিচ বিক্রি করে দেবে। এজন্যই বাজারে মরিচ বেশি।”পাইকারি ব্যবসায়ী আবু হানিফ বলেন, “এই সপ্তাহে প্রচুর মরিচের আমদানি হয়েছে। কৃষকরা একসঙ্গে মরিচ বিক্রি করে দিচ্ছেন। তাই হঠাৎ দামের দরপতন। কিছুদিন পর আবার সরবরাহ কমে গেলে দাম বাড়তে পারে।”কটিয়াদী কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম বলেন, “মৌসুমের শেষ সময়ে কৃষকরা মরিচ বিক্রি করে দিচ্ছেন, এজন্য আমদানি বেড়েছে। তবে মরিচ শুকানো গেলে পরবর্তীতে ভালো দাম পাওয়া যেত। কিছুদিন দাম কম থাকলেও পরে সরবরাহ কমে গেলে আবার দাম বাড়তে পারে।”ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
