এবারও বোরো ধানের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার চাষিরা। তবে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। আকাশে ঘনকালো মেঘ দেখলেই চাষিদের কপালে পড়ছে চিন্তার ভাজ। ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে না তোলা পর্যন্ত তাদের দুশ্চিন্তা শেষ হচ্ছে না।জীবননগর উপজেলার ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ জায়গা জুড়ে শুধু ধান আর ধান। ধানের শীষগুলো এখন সোনালী বর্ণ ধারন করা শুরু করেছে। সোনালী ধানের শীষে যেন দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন।আর মাত্র ৭ থেকে ১০ দিন পর পুরোদমে ধান কাটার কাজ শুরু হবে। ধানের ফলন ভালো হলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান সঠিক সময়ে ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন চাষিরা। কৃষক শাহাবুদ্দীন বলেন, ডিজেল সংকটের কারনে ধানে সেচ দিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবুও আল্লাহর রহমতে ধানে খুব ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু ঝড়বৃষ্টি নিয়ে খুব টেনশনে আছি। আকাশে মেঘ দেখা দিলেই দুশ্চিন্তা বাড়ছে। ধান ঘরে না তোলা পর্যন্ত এই চিন্তা শেষ হচ্ছে না।ছাত্তার আলী নামের আরেক চাষি বলেন, ২ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। পাম্পে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করে তেল নিয়ে সেচ দিচ্ছি। আর ১ সপ্তাহে পরে ধান কাটার উপযুক্ত হবে। এখন বৈশাখ মাস ঝড়বৃষ্টির সময়। এজন্য ফসল বাড়ি নিয়ে যাওয়া নিয়ে চিন্তিত আছি।লিটন হোসেন বলেন, সপ্তাহ খানিক পর থেকে মাঠে পুরোদমে ধান কাটার কাজ শুরু হবে। একসাথে ধান কাটার কাজ শুরু হলে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিতে পারে। আবার আবহাওয়াও ভালো যাচ্ছে না।সবকিছু মিলিয়ে ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। এরকম অনেক চাষি বৈরী আবহাওয়া জন্য ধান নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, জীবননগর উপজেলায় এবছর ৭ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এবার ধানের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক ফসল ঘরে তুলবেন চাষিরা। ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেলে কর্তন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার সংবাদসহ কৃষকদের নানা পরামর্শ দেওয়া ও সহযোগিতা করার জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
