কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার বড় আজলদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে গেল দুই দিন ধরে চলছে মেলা। একদিকে চলে শ্রেণি কার্যক্রম, আরেকদিকে চলে মেলা। এতে করে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ।জানা গেছে, উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের বড় আজলদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে রবিবার (১৯ এপ্রিল) থেকে একটি চক্র অনুমতি ছাড়াই মেলা বসিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।বিদ্যালয় পরিদর্শনে দেখা যায়, অফিস কক্ষে শিক্ষকরা উপস্থিত থাকলেও ৪র্থ শ্রেণিতে মাত্র চারজন শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল না।সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বিদ্যালয়টিতে মোট ১৪১ জন শিক্ষার্থী এবং ৮ জন শিক্ষক রয়েছেন। তবে মেলার কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বিদ্যালয়ে আসতে পারছে না।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস সাহা বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল কোনো অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয় মাঠে মেলা বসিয়েছে। চাকরির অবস্থান ও পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি আমি কিছু করতে পারছিনা। তবে আমি বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি।পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দৌলত হোসেন খান বলেন, বিদ্যালয় মাঠে অনুমতি ছাড়াই জোরপূর্বক মেলা বসানো হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।এ বিষয়ে মেলা কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমিন কাজী বলেন, একদিনের জন্য ছোট একটি মেলা বসেছিল এখন ভেঙ্গে যাচ্ছে। পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মেলা বসানোর বিষয়টি আজকে অবগত হয়েছি। এ মেলার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ দখল করে এ ধরনের মেলার কারণে শিশুদের নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছ, যা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
