দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ভোগান্তি কাটিয়ে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌরসভায় আধুনিক ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে সেপটিক ট্যাংকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) পৌর এলাকার বামনহাটা এলাকায় স্থাপিত প্লান্টটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাজিব হোসেন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে দেশের ৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্লান্টটি নির্মাণ করা হয়েছে।উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রাজিব হোসেন বলেন, পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এতদিন সেপটিক ট্যাংকের বর্জ্য অপরিকল্পিতভাবে ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। নতুন প্লান্ট চালুর ফলে এসব বর্জ্য এখন নির্ধারিত পদ্ধতিতে অপসারণ ও প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে।তিনি আরও জানান, এখন থেকে বাসাবাড়ির সেপটিক ট্যাংকের লাইন সরাসরি ড্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত করা যাবে না। এ ধরনের সংযোগ দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি রোগজীবাণু বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ায়। বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সেবার আওতায় পৌরবাসী ১ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে সেপটিক ট্যাংকের বর্জ্য অপসারণ সুবিধা পাবেন। ইতোমধ্যে মাইকিংয়ের মাধ্যমে এ সেবা সম্পর্কে প্রচারণাও চালানো হয়েছে।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এতদিন খাল, ড্রেন কিংবা ফাঁকা স্থানে বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণ ছিল নিত্যদিনের সমস্যা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যেত। নতুন প্লান্ট চালুর ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন তারা।তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে এই উদ্যোগের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না।এদিকে প্লান্টটিকে ঘিরে ভবিষ্যতে বর্জ্য পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আরও উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পৌরসভার প্রকৌশলী মো. শাজাহান কবির, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
