মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্ত এখন মাদক পাচারের প্রধান রুট হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাঁটাতারের বেড়া না থাকা এবং জলসীমা চিহ্নিতকরণের সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগিয়ে আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে মাদকের ভয়াবহতা। তবে অরক্ষিত এই সীমান্তে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে গত দুদিনে ১৩ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবার বড় দুটি চালান জব্দ করা হয়েছে।শনিবার (১১ এপ্রিল) উখিয়া ৬৪ বিজিবির সদস্যরা টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নাফনদী বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় বস্তাবন্দি ৮ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।বিকালে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ৬৪ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল জহিরুল ইসলাম জি বলেন, “মাদকের আগ্রাসন প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যরা সদা তৎপর রয়েছে। অরক্ষিত পয়েন্টগুলো সুরক্ষিত করা যেমন জরুরি, তেমনি মাদক নির্মূলে স্থানীয় জনগণ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তাও একান্ত প্রয়োজন।”অন্যদিকে, গত ১০ এপ্রিল দিবাগত রাতে টেকনাফ থানা পুলিশের একটি দল হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে একটি মুরগির ফার্মে তল্লাশি চালিয়ে দুটি বস্তায় মজুদ করে রাখা ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে বিজিবি বা পুলিশের কোনো অভিযানেই তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পাচারকারীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে নাফনদী ও গহীন পাহাড়ে পালিয়ে যায়।অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নাফনদীর প্রায় ৬০ কিলোমিটার জলসীমার ৫৪ কিলোমিটারই টেকনাফ সীমান্তে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হোয়াইক্যং থেকে শাহপরীর দ্বীপের বদরমোকাম পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার সীমান্ত সড়কটির নির্মাণ কাজ থমকে থাকায় নজরদারি ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এই সড়ক ও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন হলে বিজিবি, কোস্টগার্ড ও পুলিশের অভিযানিক কার্যক্রম আরও বেগবান হবে।মালিকবিহীন বড় বড় চালানের উদ্ধার নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তা নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, পাচারকারীদের মূল উৎপাটন করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
