মাদ্রাসার আঙিনায় তখন টিফিনের ছুটির আনন্দ। আর দশটা শিশুর মতো ছোট্ট তোহফাতুল জান্নাতও হয়তো মেতে উঠেছিল সেই ১০ মিনিটের ছোট্ট বিরতিতে। কিন্তু কে জানত, এই ১০ মিনিটের বিরতিই তার জীবনের শেষ বিরতি হয়ে দাঁড়াবে! চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে একটি পুকুরের কালো জলে ডুবে অকালে ঝরে গেল ৬ বছর বয়সী এই ফুটফুটে শিশুর প্রাণ। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ছনুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া আজিজিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় ঘটেছে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা।তোহফাতুল জান্নাত নয়াপাড়ার বাসিন্দা মাওলানা নাছির উদ্দীনের কন্যা। মাওলানা নাছির উদ্দীন নিজে সাতকানিয়ার একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। তিন বোনের মধ্যে তোহফাতুল জান্নাত ছিল সবার বড়। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে তাকে ঘিরে বাবা-মায়ের কতই না স্বপ্ন ছিল! কিন্তু মুহূর্তের এক অসতর্কতায় সব স্বপ্ন যেন ওই পুকুরের জলেই তলিয়ে গেল।ঘটনার দিন প্রতিদিনের মতোই সকাল ১১টার দিকে মাদ্রাসায় ১০ মিনিটের টিফিন বিরতি দেওয়া হয়। বিরতি শেষে ঘণ্টা বাজলে অন্য সব শিক্ষার্থী যখন নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসে, তখন নার্সারিতে পড়া ছোট্ট তোহফাতুল জান্নাতের আসনটি শূন্য পড়ে থাকে। শিক্ষকরা উদ্বিগ্ন হয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও তার সন্ধান না পেয়ে খবর পাঠানো হয় তার নিজ বাড়িতে। স্বজন ও শিক্ষক সবাই মিলে যখন হন্যে হয়ে তাকে খুঁজছেন, ঠিক তখনই মাদ্রাসার পাশের পুকুরের পানিতে ভাসতে দেখা যায় তোহফাতুল জান্নাতের নিথর দেহ।মাদ্রাসার মতো একটি সুরক্ষিত জায়গায় এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোকাহত পুরো এলাকা। নয়াপাড়া আজিজিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক কাজী মাওলানা আবদুল হালিম জানান, তার মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সবসময় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে। এত কড়াকড়ির পরও কীভাবে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেল, তা ভেবে তিনি নিজেও অত্যন্ত মর্মাহত। ঘটনাটিকে তিনি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন।একটি ছোট্ট শিশুর এমন অকাল মৃত্যুতে শুধু মাওলানা নাছির উদ্দীনের পরিবারেই নয়, পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পুকুরের শান্ত জল যে কখনো কখনো এতটা নির্দয় হতে পারে, তা যেন আরেকবার প্রমাণ করল ছোট্ট তোহফাতুল জান্নাতের এই বিদায়।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
