গণমাধ্যমে চাঁদাবাজির তথ্য দেওয়ায় যশোরের শার্শা উপজেলার গোগা বাজারের সেই রড়-সিমেন্ট ব্যবসায়ী কামাল হোসেনকে দ্বিতীয় দফায় বেধড়ক মারপিট করার অভিযোগ ওঠেছে কথিত বিএনপি নেতা হজরত আলীসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চরম আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করছে ভিকটিমের পরিবার বলে জানা গেছে।পরিবারটি জানায়, হজরত আলীর পোষ্য সন্ত্রাসীদের ভয়ে থানায় মামলা পর্যন্ত করতে ভয় পাচ্ছেন তারা। দীর্ঘদিন এলাকায় ত্রাশ সৃষ্টি করে চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িত হজরত আলীর সাঙ্গপাঙ্গরা।জানা গেছে, কথিত বিএনপি নেতা হজরত আলীর সঙ্গে পূর্ব থেকেই কৃষি জমিতে সেচ (পানি দেওয়া) নিয়ে কামাল হোসেনের বিরোধ চলছিল। বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কামাল হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবিতে ব্যাপক ভাংচুর, ক্যাশ ড্রয়ারে থাকা প্রায় তিন লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যান হজরত আলীসহ তার পোষ্য সন্ত্রাসীরা।এ সময় কামাল হোসেনের পিতা মোমরেজ আলী ও কামালের ১৫ বছর বয়সী ছেলেও মারধরের শিকার হন। এতে কামাল হোসেনের পিতা মোমরেজ আলী গুরুতর জখম হন। ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে ওই টাকা দিতে হবে- বলে হুমকি দিয়ে দোকান বন্ধ করে দেন তারা। ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও এগিয়ে আসেনি বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী।এ ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে দোকান খুলে গোগা বাজারে গণমাধ্যমে তথ্য দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের সামনেই কামাল হোসেনেকে কোদালের আছাড় ও রড দিয়ে দ্বিতীয় দফায় বেধড়ক মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে রেখে যায় হজরত আলীর ১০/১২ জন পোষ্য সন্ত্রাসী। যে মারপিটের ভিডিও ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। এই প্রতিনিধির হাতে আসা একটি সিসি টিভি ফুটেজে দেখা গেছে, হযরত আলীর নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন প্রকাশ্যে ওই হামলায় অংশ নেন। মাথায় ও শরীরে একের পর এক মোটা লাঠি ও রড দিয়ে মারা হচ্ছে। গুরুতর আহত ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বর্তমানে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত হজরত আলী ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসী ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না।ভূক্তভোগী কামাল হোসেন জানান, তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, কিন্তু গণমাধ্যমে তথ্য দেওয়া তার কাল হয়েছে। এখনো প্রতিদিন তার বাসার সামনে সন্ত্রাসীরা সকাল বিকাল ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মহড়া দিচ্ছে। এতে তার পরিবার চরম আতঙ্কে ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তিনি দাবি করেন প্রথম দিন সন্ধ্যায় পুলিশের সামনেই তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর, মারপিট, ও নগদ টাকা লুটপাট করেন দুর্বৃত্তরা। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি কোন সহযোগিতা পাননি। এ ছাড়াও হযরত আলী পূর্বে তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অন্তত ছয়টি মিথ্যা মামলা করেছেন।তিনি স্থানীয় সাংবাদিকেদের জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে এখনও পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে পারেননি।অভিযুক্ত হজরত আলী তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কামাল হোসেন অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করতে সহযোগিতা করেছে, ওই মামলায় আমার প্রায় ২৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সেই টাকা চাইতে গিয়ে সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় কোন ব্যক্তি থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। যদি অভিযোগ করেন, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
