গ্যাস সংকটে ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের দুটি বৃহৎ সার কারখানা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)। এবার বন্ধের একই এলাকায় অবস্থিত ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড(ডিএপিএফসিএল)। অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ থাকায় আগামী সপ্তাহ নাগাদ কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।মঙ্গলবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করে ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনুল হক বলেন, সিইউএফএল ও কাফকো চালু হয়ে দ্রুত অ্যামোনিয়া সরবরাহ করতে না পারলে কারখানাটি উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। বর্তমানে মজুত অ্যামোনিয়া দিয়েই উৎপাদন কার্যক্রম সীমিতভাবে চালানো হচ্ছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের কৃষি খাতে সুষম সারের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রিত ডিএপিএফসিএল প্রতিষ্ঠা করা হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত এই কারখানায় দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতার দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। নির্মাণ শেষে ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়।বর্তমানে কারখানাটিতে দৈনিক প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন হচ্ছে।কারখানা সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই পার্শ্ববর্তী সিইউএফএল ও কাফকো কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহের ওপর নির্ভর করে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে সম্প্রতি কারখানা দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অ্যামোনিয়া সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে মজুত অ্যামোনিয়া শেষ হয়ে গেলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনুল হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের কারখানায় অন্যান্য সার কারখানার মতো বেশি গ্যাসের প্রয়োজন হয় না। আবাসিক লাইনের মতো স্বল্প গ্যাস দিয়েই কারখানা চালানো যায়। কিন্তু ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য সিইউএফএল ও কাফকো থেকে অ্যামোনিয়া প্রয়োজন, সেটি না পাওয়ায় আগামী সপ্তাহ থেকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’তিনি আরও বলেন, কারখানার অধিকাংশ যন্ত্রপাতির মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে এবং জনবল সংকটও রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠাকালের তুলনায় উৎপাদন কমে গেছে।এর আগে, সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গ্যাস সংকটের কারণে সিইউএফএল ও কাফকো কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এড়াতে উৎপাদন স্থগিত করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।উল্লেখ্য, সিইউএফএল স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করে। অন্যদিকে কাফকোর দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৭২৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া ও প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া। এই দুটি কারখানা বন্ধ থাকায় অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ হয়ে ডিএপিএফসিএলেও উৎপাদন সংকট তৈরি হয়েছে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
