সাম্প্রতিক সময়ে গঠিত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অভাবনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এইদিকে আমদানি নির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশে প্রভাব পড়ায় এটাই স্বাভাবিক। এইতো গেলে ঈদের ছুটি মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল পাম্প গুলোতে তেল সংকট দেখা দিয়েছে, বলতে গেলে তা সঠিক তেল মোতায়েন, পরিকল্পনা ও ব্যবস্থা ঘাটতির কারণে হয়েছে। এই সংকট হওযার কারণেই ঈদের ছুটিতেও দেশের মানুষরা ভোগান্তি অবস্থায় ছিল, কোথাও কোথাও পেট্রোল পাম্পে জায়গায় গ্রাহক দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে, আবার কোথাও লক্ষ্য করা গেছে পেট্রোল পাম্পের তেল সরবরাহ বন্ধ দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানিতে ভয়াবহ প্রভাব ও দেশে নাগরিকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে যৌথভাবে হামলা চালানোর পর ইরান মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ঘাটি গুলোতে ইসরাইলের পাল্টা হামলা শুরু করে। এবার সংঘাতের দুই পক্ষের জ্বালানি তেল ও গ্যাস অব কাঠামো হামলা চালিয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম বড় হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়াই এতে বৈশ্বিকজ্বালা নিতে বড় ধরনের অস্থিরতা অনেকটাই তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটে ভবিষ্যতে ডিজেল ক্রুড অয়েল ও এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করাটাই হতে পারে বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জের।বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩১শে মার্চ পর্যন্ত দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন। এছাড়া সাত হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন অকটেন, ১১ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন পেট্রোল এবং ৪৪ হাজার ৬০৯ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে ডিজেলের গড় নিয়মিত চাহিদা ১২ হাজার মেট্রিক টনের মতো। অর্থাৎ মজুত থাকা ডিজেলে প্রায় ১১ দিনের মতো চলবে।তবে কি তাহলে বুঝা যাচ্ছে তেল আমদানি না করতে পারলে বাংলাদেশ শূন্য পথের দিকে যাবে। যা অনেকটায় জ্বালানির জন্যে হুমকি।সরকাল বলছেন, মে মাস পর্যন্ত তেলের চাহিদা পূরণ করতে বেশি দামে তেল আমদানি করা হয়েছে , স্বাভাবিক চাহিদা পূরণের জন্য বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় মজুদ ও তেল আমদানি করা হচ্ছে। মে মাস পর্যন্ত মজুদ সব ধরনের তেলের মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদেরও অনেকে অবৈধ মজুদ করার চেষ্টা করছে, প্রয়োজন ছাড়াও বেশি কিনছেন অনেকে। তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিবে।এই দিকে গ্রাহকরা বলছে, গাড়ি নিয়ে এসে প্রায় পাঁচ ছয় ঘন্টার অপেক্ষার অবসানের পর পর্যাপ্ত পরিমাণ না দিয়ে মাত্র দুই আড়াইশো টাকার তেল দেয়। তারা অভিযোগ করছেন পাম্প থেকে তেল দিতে অনিয়ম করা হচ্ছে, পাম্পে তেল থাকার শর্তেও তাদের অপেক্ষা করাচ্ছে পাম্প কৃতিপক্ষ। তাদের কাছে মওজুদ থাকার পরেও তারা সামনের সময়গুলোর মজুদ না আসায় বর্তমান মওজুদ থাকা তেল দিচ্ছে না। এমনটাই গ্রাহক বলছেনএই ভোগান্ত দেখে একজন মোটরসাইকেল চালিত বলেন সকাল আটটা বাজে এসে মোটরসাইকেল লাইনে দাড়িয়ে আছি এখন বাজে বিকাল চারটা, পাম্প এখনো তেল দিচ্ছে না, তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলছে, আমাদের কাছে তেল নেই, আসতেছে এখনো।অন্যদিকে পেট্রোলপাম্প কতৃপক্ষেরা বলছেন, তেলের চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম অবস্থায় আছি, শুরু আমাদের না অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পেও একই অবস্থা । চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বরাদ্দকৃত তেল ফুরিয়ে অনেক সময় ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখতে হয়। যখন আসে নিদিষ্ট সময় তা বিক্রি করি।তেল বিক্রেতা আরো বলেন, আগে যেখানে দুই লিটার তিন লিটার তেল নিত, এখন ৫-১০ লিটার কিনছে। এমনিতেই তেল সংকট দেখা দিয়ে এই গ্রাহকদের কারণে একটা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।দেশে যদি এই অবস্থা চলতে থাকে তাহলে জ্বালানি সংকটময় দিকে ধ্বসে পড়ছে দেশ। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাতে যে পরিমান তেল সংকট দেখা দিয়ে তেলের পাম্প গুলোতে, নগরবাসীদের জন্য তা রীতিমত হুমকি। তার সাথে দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিল্প কারখানার জন্য দুঃসংবাদ বটে। কেননা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানি প্রয়োজন। শিল্প কারখানাগুলো ব্যবহার হয় ভারী তেল ও ডিজেল যা কারখানা ইক্ট্রিক যন্ত্র, জেনারেটর চালাতে প্রয়োজন হয়।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
