বিশ্ব পরিস্থিতে দেশব্যাপি জ্বালানী তেল সরবরাহে বিঘ্নসহ সংকটের কারনে স্থলবন্দর বেনাপোলে আমদানি-রপ্তানিতে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। বেড়ে গেছে ট্রাকভাড়া। ফলে বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অচলাবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তেল সরবরাহ বৃদ্ধিসহ গ্রাহকের ভোগান্তি কমাতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন ভুক্তভোগী সর্বসাধারণ।অন্যদিকে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না পেয়ে অনেক তেল পাম্প মালিক তেল পাম্প বন্ধ করে রেখেছেন। যে গুলো চালু আছে সে সব পাম্প গুলোতে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। প্রচণ্ড দাবদাহ ও রোদের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত তেল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। চাকুরী, ব্যবসাসহ সব পর্যায়ের গ্রাহকেরা পড়ছেন দুর্ভোগে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাইক চালকরা। তবে প্রভাবশালী ও একটি সিন্ডিকেটের (খোলা বাজারে বিক্রেতারা) গোপনে বেশি তেল পাচার করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তেল মালিকদের বিরুদ্ধে।অন্যদিকে তেল পাম্প মালিকেরা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী অর্ধেকও তেল পাচ্চেন না তারা। যতটুকু পাচ্ছেন প্রশাসনের সহযোগিতায় সঠিক বন্টন করছেন তারা।জানা যায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের কারনে বিশ্বব্যাপি জ্বালানী তেল সরবরাহ বিঘ্ন ঘটায় এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। ফলে বিভিন্ন কারনে দেশের তেল পাম্পগুলোতে অকটেন, ডিজেল ও পেট্রোল সরবরাহ গেছে কমে। এর ফলে মটরসাইকেল, প্রাইভেটসহ বিভিন্ন যানবাহনে চাহিদা অনুযায়ী তেল না পেয়ে পড়ছেন ভোগান্তিতে। বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন তেল পাম্প। এদিকে তেল না পেয়ে বন্দরে পণ্য লোড আনলোডিংয়ে হচ্ছে ব্যাহত, বাড়ছে ভাড়া। গত সপ্তাহ থেকে চলতি সপ্তাহে ট্রাক প্রতি ভাড়া বেড়েছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। অথচ সরকার থেকে বলা হচ্ছে পর্যাপ্ত তেল মজুদ আছে। পাম্পে গেলে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝে মধ্যে যা পাওয়া যাচ্ছে তাতে দুর পাল্লার মালামাল পরিবহন করা দুস্কর হয়ে পড়েছে। এসব থেকে প্রতিকার চান বন্দর ব্যবহারকারী ব্যাবসায়ীর সাথে সংশ্লিষ্টরা। এছাড়াও নতুন করে যোগ হয়েছে বেনাপোল-শার্শা ছাড়াও যশোর, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে তেল নিতে আসছেন বেনাপোলে ফলে বাড়ছে ভীড়। চাকুরীজীবি ব্যবসায়ীসহ ভোক্তারা দিনের পর দিন তেল না পেয়ে হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত। চাষাবাদের জন্য মাঠের কৃষকদের ও ড্রাম নিয়ে তেল পাম্পে ভিড় করতে দেখা যাচ্ছে।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত এই অব্যবস্থাপনা বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বড় ধরনের উত্তোজনার সৃষ্টি করতে পারে। তাই জনভোগান্তি লাঘবে দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন ও পাম্প কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি।মোটরসাইকেল চালক আনিছুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু তেল পাচ্ছি না। অথচ কিছু লোক এসে প্রভাব খাটিয়ে আগে তেল নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের কষ্টের শেষ নেই।জাবির হোসেন নামে একজন অফিস সহকারি বলেন, সকাল থেকে ৩ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র দু‘শ টাকার তেল পেয়েছি। অফিসের কাজে আমাকে বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়। প্রতিদিন আমার তিন চারশ’ টাকার তেল লাগে।আশরাফ হোসেন নামে এক বাইক চালক বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ সিরিয়াল মেনে দাঁড়িয়ে থাকলেও কিছু অসাধু ব্যক্তি ও প্রভাবশালী মহল কোনো নিয়ম না মেনেই তেল সংগ্রহ করছে। তাদের কেউ কিছু বলতে সাহস পান না। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, সেখানে উপস্থিত দায়িত্বরত পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।প্রত্যক্ষদর্শী জয়নাল আবেদীন বলেন, পুলিশ সাধারণ মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখলেও পরিচিত বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তেল নেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে। এই স্বজনপ্রীতির কারণে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ এখন অসহায় বোধ করছেন। ফিলিং স্টেশন চত্বরে তৈরি হওয়া এই বিশৃঙ্খলা নিরসনে পাম্প কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি।বেনাপোল ফিলিং স্টেশনের মালিক গোলাম মোর্শেদ সেলিম ও শাহাজালার ফিলিং স্টেশনের পরিচালক ইয়ান আলী জানান, চাহিদা অনুযায়ী অর্ধেকও তেল পাচ্চেন না তারা। যতটুকু পাচ্ছেন প্রশাসনের সহযোগিতায় সঠিক বন্টন করছেন তারা। আমরা কিছু বলতে গেলে আমাদের দিকে মারতে আসছে কতিপয় তেল গ্রাহক। পেনিক সৃষ্টি করার জন্য একই ব্যক্তি বার বার আসছে তেল নিতে। এ নিয়ে অনেক পাম্পে হাতাহাতিও হয়েছে। আমরা তেল পাম্প বন্ধ রেখেছিলাম। পরে প্রশাসনে সহযোগিতায় আবারও চালু করেছি। বেনাপোলের বাইরের জেলার লোকও এখানে তেল নিতে আসছে। সুষ্ঠু তেল বিতরণে প্রশাসনকে আরো অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহবান তাদের।শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, ফিলিং ষ্টেশনের নিরাপত্তা দিতে নিয়োগকৃত পুলিশ অফিসারদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া আছে তেল নেওয়ার ক্ষেত্রে কোন স্বজনপ্রীতি হবেনা। সে যেই হোক তাকে জনগণের কাতারে থেকে তেল নিতে হবে। তবে কেউ স্বজনপ্রীতি করছে কিনা খতিয়ে দেখবেন বলে তিনি জানান।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
