গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে মাদক বেচাকেনার অভিযোগ উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগে উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে মাদকের বিস্তার ঘটলেও অভিযানে পুলিশের রহস্যজনক অনীহা এবং কিছু ক্ষেত্রে ‘তদবিরের’ কারণে বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে উপজেলার চন্দ্রা এলাকা সংলগ্ন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দুই পাশে এবং কালিয়াকৈর বাইপাস পর্যন্ত অন্তত ১৫টি হোটেলে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে। এসব স্পট থেকে তরুণ ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনায়াসেই মাদক সংগ্রহ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদকের প্রভাবে চন্দ্রা এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। বিষয়টি পুলিশ অবগত থাকলেও অজ্ঞাত কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।এছাড়া উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের মেদী আশুলাই চান্দেরচালা এলাকায় কাশেম নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে তাঁর স্ত্রী সালমা বেগম ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও মহল্লায় মাদকের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।মাদকবিরোধী অভিযানে কেন স্থবিরতা—এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালিয়াকৈর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। তিনি বলেন, “প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনার বিষয়টি আমাদের জানা আছে। তবে অভিযান চালাতে গেলে কিছু গণমাধ্যমকর্মীর পক্ষ থেকে তদবির ও বাধা আসে। এ কারণে অনেক সময় অভিযান চালানো সম্ভব হয় না। কারা এসব করছে, সেটি আপনারাও খতিয়ে দেখতে পারেন।”বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কালিয়াকৈর থানার পাশে একটি চায়ের দোকানে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন এবং শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরেও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মাদকবিরোধী কার্যকর অভিযান অবিলম্বে জোরদার করা না হলে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়বে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে। তাঁরা এই চক্রের নেপথ্যে থাকা ‘তদবিরকারী’ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
