পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল সাজাতে গিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে তুললেন তৃণমূল নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) কলকাতার এক নির্বাচনী জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি এক মঞ্চে বিতর্কের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তিনি।জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে বলুন আমার সঙ্গে এক মঞ্চে বিতর্ক করতে। তাঁর মুখোশ টেনে খুলে দেব। টেলিপ্রম্পটার ছাড়া তিনি কথা বলতে পারেন না, শুধু সাজানো সাক্ষাৎকার দেন। আমরা ভুল বললে তা সংশোধন করি, কিন্তু উনি তা করেন না।”নির্বাচনী প্রচারে বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে ভোটারদের একজোট হওয়ার আহ্বান জানান মমতা। তিনি বলেন, “সবাই একসঙ্গে ভোট দিন। এরা সিপিএমের থেকেও ভয়ঙ্কর। এখন অনেক সিপিএম কর্মী বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। এরা খুবই বিষাক্ত রাজনীতি করছে।”ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে অনেক ভোটারের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। যাদের নাম বাদ গেছে, তাদের দ্রুত ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “পার্টি অফিস থেকে ফর্ম নিয়ে সাহায্য নিন। যারা নাম কেটেছে, তাদের একটিও ভোট দেবেন না।”মালদহের সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, এর পেছনে বহিরাগতদের হাত রয়েছে। আসাদউদ্দিন ওয়েইসিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “হায়দরাবাদ থেকে কিছু লোক এসে ভোটের সময় বিভাজনের রাজনীতি করছে। বিহারে যেমন হয়েছে, এখানেও সেই চেষ্টা চলছে।”রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সিআইডির (CID) প্রশংসা করলেও নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “কমিশন প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় আমার হাতে সব ক্ষমতা নেই। এত কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকা সত্ত্বেও কেন অশান্তি আটকানো যাচ্ছে না?” মণিপুর পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে বলেন, “আগে নিজের রাজ্য সামলান, তারপর বাংলার দিকে তাকান।”সংখ্যালঘু ভোটারদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, বিহারের মতো এখানেও ভোট ভাগের খেলা চলছে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আগামী দিনে টিকে থাকতে হলে এই নির্বাচনে জয়কে ‘অস্তিত্বের লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাগযুদ্ধে শাণিত হচ্ছেন যুযুধান দুই পক্ষ। সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ জানানোয় বাংলার নির্বাচনী লড়াই এক নতুন মাত্রা পেল।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
