পাবনার ঈশ্বরদীতে বাড়ি ফেরার পথে ছাত্রদল নেতা ইমরান হোসেন সোহাগকে (৩০) গুলি ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে এলাকাবাসি ও দলীয় নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে পৌর শহরের খায়রুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়।বিক্ষোভে নিহত সোহাগের পরিবার, স্বজন, এলাকাবাসী এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় “আমার ভাই মরল কেন? প্রশাসন জবাব চাই”, “খুনিদের ফাঁসি চাই” স্লোগানে পুরো শহর উত্তাল হয়ে ওঠে।বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসলাম হোসেন জুয়েল, পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র আনোয়ার হোসেন জনি, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল, পৌর ছাত্রদলের প্রস্তাবিত কমিটির আহ্বায়ক নাজমুল হাসান রিশাদ, উপজেলা ছাত্রদল নেতা মুস্তাফিজুর রহমান বিটু ও শাওন।বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে পরিকল্পিতভাবে ছাত্রদল নেতা সোহাগকে হত্যা করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত নৃশংস ও অমানবিক ঘটনা। জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা ও হত্যার মাধ্যমে একটি পক্ষ রাজনৈতিক ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। আমরা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।”নিহত সোহাগের ছোট ভাই রোহান কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এই হত্যার বিচার চাই। খুনিদের এমন শাস্তি দেওয়া হোক যেন আর কেউ এভাবে মানুষ হত্যার দুঃসাহস না দেখায়।”ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান জানান, “হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি।”উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা ছাত্রদলের অন্যতম নেতা ও জিয়া সাইবার ফোর্স ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক ইমরান হোসেন সোহাগকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে ধানখেত থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার বাদ মাগরিব জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
