ভালোবাসা কি শুধু একজনের জন্যই সংরক্ষিত? নাকি কখনো একই সময়ে দুজন মানুষকে ভালো লাগতে পারে, দুজনের প্রতিই টান অনুভব করা সম্ভব?শুনতে একটু অস্বস্তিকর লাগলেও, মনোবিজ্ঞান বলছে – এই অনুভূতি একেবারে অসম্ভব নয়।অনেকের মনেই তাই প্রশ্ন, প্রেম মানেই কি মনের দুয়ারে একজনই দাঁড়িয়ে? আধিপত্যও কি তার একার?একাধিক ব্যক্তি মনে ঠাঁই পেলেই সামাজের চোখরাঙানি, হাজারো জবাবদিহি, চরিত্র নিয়ে কাটাছেঁড়া। কিন্তু সত্যিই কি এটা অন্যায়?বিভিন্ন গবেষণা বলছে, অনেকের মনেই ঘাপটি মেরে থাকে তৃতীয় আরেকজন বা একাধিকজনের প্রতি টান। সেই টানে কেউ কেউ সম্পর্ক পর্যন্ত গড়ান, কেউ বা সমাজের ভয়ে ঢোঁক গেলেন সেখানেই। কিন্তু কেন এমন হয়? কী বলছে বিজ্ঞান?যার সঙ্গে সম্পর্কে আছেন, তাকেও ভালোবাসছেন আবার অন্য কাউকেও ভালোলাগে, মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই জটিল মনোবৃত্তির নাম পলিঅ্যামোরি বা কনসেন্সুয়াল ননমোনোগ্যামি।মনোবিদদের মতে, প্রত্যেকটি মানুষই বিভিন্ন পৃথক বৈশিষ্ট্যযুক্ত হন। একজন মানুষের মধ্যে সবটুকু পছন্দের বৈশিষ্ট্য যে মিলবেই, এমন নয়। তাই ভালো লাগার কোনো গুণ বা স্বভাব থেকে প্রেম বা ভালবাসার অনুভূতি একাধিকজনের প্রতি জন্মাতে পারে।তাদের মতে, এ ধরনের মনোবৃত্তি অস্বাভাবিক কিছু নয়। পিটুইটারি গ্রন্থি ও ফিল গুড হরমোনরাই পলিঅ্যামোরির জন্য দায়ী।এখানেই একটু সতর্ক হওয়া দরকার। একই সময়ে দুজনকে ভালো লাগা মানেই এটি সব সম্পর্কের জন্য স্বাস্থ্যকর – এমন নয়। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সততা, স্বচ্ছতা ও সীমারেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।কারও প্রতি আকর্ষণ বোধ করাটা ‘স্বাভাবিক’ হলেও, অন্য একটি সম্পর্কে থাকা অবস্থায় তাকে প্রতারণা করা, বা লুকিয়ে দ্বিতীয় ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক করা মোটেও স্বাভাবিক নয়।কারণ অনুভূতি তৈরি হওয়া অনেক সময় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না, কিন্তু সেই অনুভূতির ভিত্তিতে কী সিদ্ধান্ত নেবেন – তা পুরোপুরি আপনার হাতে।তাই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সবচেয়ে জরুরি হলো – নিজের অনুভূতিকে বোঝা, সৎ থাকা এবং সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া। ভালোবাসা শুধু অনুভূতি নয়, এটি একটি দায়িত্বও।আরএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
