টানা এক বছর অটুট থাকার পর অবশেষে ভাঙতে শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মন্ত্রিসভা। প্রথম মেয়াদে ঘনঘন কর্মকর্তা বরখাস্তের যে ‘নাটকীয়তা’ ট্রাম্পের প্রশাসনের ছায়া হয়ে ছিল, দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি তা সযত্নে এড়িয়ে চলছিলেন। কিন্তু মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে সেই চেনা দৃশ্যপটে ফিরলেন ট্রাম্প। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম-এর পর এবার হোয়াইট হাউস থেকে বিদায় নিতে হলো অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র পাম বন্ডিকে।পাম বন্ডি দীর্ঘকাল ধরে ট্রাম্পের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু সূত্রের খবর, আলোচিত ও বিতর্কিত ‘এপস্টাইন ফাইল’ (Epstein files) সামলানোর ক্ষেত্রে বন্ডির ভূমিকায় চরম অসন্তুষ্ট ছিলেন প্রেসিডেন্ট। এছাড়াও ট্রাম্পের বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনায় বিচার বিভাগের ব্যর্থতা প্রেসিডেন্টের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ট্রাম্পের প্রত্যাশা অনুযায়ী আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিতে না পারাই বন্ডির জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে প্রথম এক বছরের মধ্যেই অনেক সিনিয়র কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল, যা তখন হোয়াইট হাউসের মূল এজেন্ডাকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসত। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প এই ইমেজ কাটিয়ে উঠতে চেয়েছিলেন এবং পুরো এক বছর তার মন্ত্রিসভাকে একতাবদ্ধ রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু পাম বন্ডি এবং ক্রিস্টি নোম-এর বিদায় সেই স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের ফাটল ধরিয়ে দিল।ট্রাম্প প্রশাসনের এই রদবদল কেবল ব্যক্তির বিদায় নয়, বরং এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে প্রেসিডেন্ট তার দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়ে আরও কঠোর ও আক্রমণাত্মক বিচার বিভাগীয় পদক্ষেপ চান। মিত্র হলেও যারা তার লক্ষ্য পূরণে ধীরগতি দেখাবেন, তাদের জন্য ট্রাম্পের দরজায় আর জায়গা নেই—বন্ডির অপসারণ সেই বার্তাই দিচ্ছে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
