ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের জন্য স্বল্প মূল্যে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রিতে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে টবগী ইউনিয়নের ১, ২, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুবিধাভোগীদের মাঝে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। বিতরণের সময় প্রতিটি বস্তায় ৩০ কেজির পরিবর্তে ২৫/২৬ কেজি চাল বিতরণ করা হয় বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। ক্রয়কৃত চাল অন্যস্থানে ওজন দিয়ে এ ঘটনার সত্যতা মিলেছে।স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকাল থেকে সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণ হওয়া প্রতিটি চালের বস্তায় ওজনে ৩ থেকে ৬ কেজি পর্যন্ত কম রয়েছে। ১৫ টাকা কেজি ধরে ৩০ কেজি চালের ৪৫০ টাকা বুঝিয়া নিলেও ওজনে কম দেওয়া হয়। এতে তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।তারা আরও জানান, সরকারি বস্তার গায়ের ৩০ কেজি লেখা থাকলেও অজানা কারণে ২৪ থেকে ২৭ কেজি চাল পাওয়া যায় প্রতিটি বস্তায়। গরীব অসহায় মানুষের চাল ওজনে কম পাওয়ায় তারা এর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচারের দাবি জানান।কার্ডধারী সুবিধাভোগী টিপু, সাদেক ও বেচু মিয়া জানান, চাল বিতরণের পর বাসায় এনে ওজন দিয়ে মেপে দেখি বস্তায় ৫ থেকে ৬ কেজি কম। এর আগে, চাল এনে ওজনে কম পেয়েছি। আমরা গরীব মানুষ কষ্টের টাকা দিয়ে কিনে সরকারী চালের ওজনে কম হওয়া এটা দুঃখজনক। এর প্রতিকার চেয়েছেন তারা।বস্তায় ওজনে চাল কম হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার টবগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য সচিব মঞ্জু মাল বলেন, চাল আনার সময় কিছু বস্তা পড়ে ফেটে যায়, এতে কিছু বস্তায় চাল কম হয়। এছাড়া অন্য কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।ওজনে চাল কম দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্তে যান উপজেলা সহকারী কর্মকর্তা (ভূমি) রনজিৎ চন্দ্র দাস। তিনি জানান, মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে সকলের উপস্থিতিতে ওজনে চাল কম দেওয়ার বিষয়ে সত্যতা পাওয়া যায়। এ বিষয়ে তিনি উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করেছেন।এ ব্যাপারে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রায়হান উজ্জামান বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
