গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় জব্দকৃত ঘোড়া গোপনে বিক্রির অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত বদলি আদেশ কার্যকর হয়।স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মার্চ উপজেলার খলিশাজানি এলাকার একটি জঙ্গল থেকে জবাই করার প্রস্তুতিকালে ৯টি ঘোড়া উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে ঘোড়াগুলো থানা হেফাজতে রাখা হয়। এর মধ্যে একটি ঘোড়া অসুস্থ হয়ে মারা যায়।অভিযোগ উঠেছে, গত রোববার ভোরে ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন অবশিষ্ট ৮টি ঘোড়া গোপনে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। সোমবার সকালে থানায় ঘোড়াগুলো দেখতে না পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংবাদকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেন। অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ঘোড়াগুলো পুনরায় উদ্ধার করে সোমবার দুপুরে প্রকাশ্যে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। তবে ঘোড়াগুলো ফেরত আনার পর দেখা যায়, অন্তত দুটি ঘোড়ার রঙের সঙ্গে পূর্বে জব্দকৃত ঘোড়ার অমিল রয়েছে। এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয় যে, থানা হেফাজত থেকে ঘোড়া সরিয়ে পরবর্তীতে অন্য ঘোড়া এনে নিলাম করা হয়েছে কি না।ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নেয় এবং অবশেষে অভিযুক্ত ওসিকে বদলি করা হয়।কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, ঘোড়াগুলো যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। পূর্বের বিভ্রান্তি নিরসনের জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।অভিযুক্ত ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ঘোড়াগুলো বিক্রি করা হয়নি, সাময়িকভাবে একজনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। পরে সেগুলো থানায় ফিরিয়ে এনে নিয়ম অনুযায়ী নিলাম করা হয়েছে।”গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন জানান, উদ্ভুত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কালিয়াকৈর থানায় নতুন ওসি পদায়ন করা হয়েছে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
