টানা বৃষ্টিতে দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলে কোটি কোটি টাকার পণ্য পানিতে ডুবে নষ্ট হওয়ার পর এবার নড়েচড়ে বসেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে অবশেষে গঠিত হয়েছে ছয় সদস্যের একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি। বুধবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ভোররাত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বন্দর এলাকা প্লাবিত হয়। ফলে এই মৌসুমি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পণ্যভর্তি শত শত কনটেইনার। নষ্ট হয়েছে আমদানি করা কাগজ, টেক্সটাইল ডাইস, কেমিক্যাল, গার্মেন্টসের কাঁচামালসহ কোটি টাকার পণ্য। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দায় এড়াতে পারে না বন্দর কর্তৃপক্ষ।সরেজমিনে দেখা যায়, ড্রেন ব্যবস্থা ও পুরোনো ড্রেন সংস্কারের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বেনাপোল কাস্টমস, বন্দর, রেলওয়ে ও পৌরসভা সমন্বিতভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকলেও এবার তা স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষে সবাই একসাথে কাজ শুরু করেছেন।স্থলবন্দরে উপ পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার জানান, ‘স্থায়ীভাবে সমাধান করতে হলে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে এবং বর্তমানে রেলওয়ে তাদের নিজস্ব তদারকিতে পানি নিষ্কাশন করবে। একই সাথে সাথে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাদের মত পানি নিষ্কাশন করবে। স্থায়ী কোনো প্রকল্প না হলে এ পানি নিষ্কাশনের সঠিক সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়।’প্রসঙ্গত, বুধবারই জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার লক্ষ্যে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটির সভাপতি বেনাপোল পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সদস্য হিসেবে রয়েছেন কাস্টম হাউস, রেলওয়ে, স্থলবন্দর ও একজন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি।স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এ সমন্বিত উদ্যোগ ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে বেনাপোল স্থলবন্দরের কার্যক্রম বাধাহীনভাবে পরিচালিত হবে।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
