ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরোধ করে রেখেছে ইরান। এর জেরে গত একমাসে পারস্য উপসাগরে কমপক্ষে ২ হাজার ১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়েছে।হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ১১ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোর ফাক্কান থেকে তোলা ছবিতে তেলবাহী ট্যাংকার ও পণ্যবাহী জাহাজ দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সমুদ্র যান বিষয়ক সবশেষ তথ্যের বরাত দিয়ে আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব জাহাজের মধ্যে ৩২০টির বেশি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার রয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, আটকা পড়া জাহাজগুলোর মধ্যে ১২টি খুব বড় গ্যাসবাহী জাহাজ ও ৫০টির বেশি বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ রয়েছে।সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা কেপলার জানায়, মঙ্গলবার ও বুধবার মাত্র ছয়টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যদিও যুদ্ধের আগে প্রতিদিন শতাধিক জাহাজ চলাচল করত এ প্রণালি দিয়ে।আরব নিউজ জানায়, যেসব জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে সেগুলো ইরানের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে দেশটির উপকূল লারাক দ্বীপের কাছ দিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছে।জাহাজ চলাচল বিষয়ক তথ্যদাতা লয়েডস লিস্টের তথ্যানুযায়ী, গত সপ্তাহ থেকে কমপক্ষে ৪৮টি জাহাজ এই পথটি ব্যবহার করেছে। ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে মূলত সেসবে দেশের জাহাজগুলোকে এই পথ দিয়ে যেতে দেয়া হয়েছে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালি ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এ পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়।যাতায়াতের অনুমতি পাওয়া জাহাজ মালিকদের ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি দিতে হচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর বের হয়েছে। যদিও ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে মালয়েশিয়াসহ মিত্র দেশগুলোর জাহাজের জন্য এই ধরনের চার্জ মওকুফ করা হতে পারে।এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বুধবার তেহরানকে হুঁশিয়ার দিয়ে বলেছেন, হরমুজে অবরোধ তোলাসহ ইরান যদি তার সব দাবি না মানে তাহলে ওয়াশিংটন ভয়াবহ সামরিক পদক্ষেপ নেয়া শুরু করবে।তবে বলপূর্বক হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য সামরিক অভিযানকে ‘অবাস্তব’ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রাঁ।এমআর-২
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
