দীর্ঘ এক বছর দুই মাসের বেশি সময় পর হাইকোর্টের নির্দেশে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ৬ নম্বর বারখাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ ফিরে পেয়েছেন মো. হাসনাইন জলিল চৌধুরী শাকিল। আদালতের আদেশ অনুযায়ী বুধবার (১ এপ্রিল) তাঁর কাছে পুনরায় প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হাইকোর্টে দায়ের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চেয়ারম্যানকে তাঁর দায়িত্ব ও ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।আদালত সূত্রে জানা যায়, সংবিধানের ১০২(২)(ক) অনুচ্ছেদের অধীনে রিট আবেদন করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে গত বছরের ১৯ আগস্ট ও ২৯ জানুয়ারি জারি করা দুটি আদেশ চ্যালেঞ্জ করেন হাসনাইন জলিল চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ ছিল, আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া ওই আদেশগুলোর মাধ্যমে তাঁর বৈধ প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।রিটে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক এবং আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়। বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।গত ২৫ ফেব্রুয়ারি শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী মিস লুৎফে জাহান পূর্ণিমা ও অ্যাডভোকেট মো. মুহাম্মদ রোকন উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। প্রথম শুনানিতে আদালত রুল নিশি জারি করে সংশ্লিষ্ট আদেশগুলো কেন আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া জারি করা হয়েছে এবং কেন তা বাতিল ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে বিবাদীদের কাছে চার সপ্তাহের মধ্যে ব্যাখ্যা চায়।পরবর্তীতে আদালত ওই দুটি আদেশের কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন এবং রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাসনাইন জলিল চৌধুরীকে পূর্ণ চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তাঁর সব প্রশাসনিক, আর্থিক ও আইনগত ক্ষমতা অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে বলা হয়।আদালত আবেদনকারীকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে বিবাদীদের কাছে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশও দেন বলে জানা যায়।এবিষয়ে বারখাইন ইউপির চেয়ারম্যানপদ ফিরে পাওয়া হাসনাইন জলিল চৌধুরী শাকিল বলেন, ‘গত ত্রিশ তারিখ থেকে পরিষদে অফিস করছি। কোনো ধরনের চাপ লক্ষ্য করছি না। আগের মতোই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাবো।’জানা গেছে, ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর বিকেলে আনোয়ারা উপজেলার কালাবিবি দিঘির মোড়ে বিএনপির মিছিলে হামলার অভিযোগে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর আনোয়ারা থানায় তৌহিদ মিয়া (৩৪) নামের এক ব্যক্তি সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খানসহ ১১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় এ ছাড়া অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ১০০-১৫০ জনকে। ওই মামলায় এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে তার নাম থাকায় গতবছরের ১১ই আগস্ট চট্টগ্রাম নগরীর নন্দনকানন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে, তিনি আদালতের মাধ্যমে জামিনে বেরিয়ে আসেন।উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের স্বাক্ষরিত এক আদেশে আনোয়ারা উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতির কারণে জনসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) দের এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।এ সময় বৈরাগ, বারশত, বারখাইন, আনোয়ারা সদর ও চাতরী ইউনিয়নে ইউএনও তাহমিনা আক্তার এবং রায়পুর, বরুমচড়া ও জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হুসাইন মুহাম্মদ প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
