মানুষের হাহাকার যেমন আকাশকে ভারী করে তোলে, তেমনি মানুষেরই ভালোবাসা কখনো কখনো মরুভূমিতে মরূদ্যান হয়ে ধরা দেয়। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সেই নিঃসঙ্গ কৃষক আবু ছায়েদ, যার জীবনের সঙ্গী ছিল কেবল অভাব আর মাইলের পর মাইল হাঁটা পথ—তার জীবনে আজ এক নতুন ভোরের সূচনা হলো।সোমবার (৩০ মার্চ) দিবাগত রাতে যখন তার ‘একাকী জীবনে সঙ্গী শুধু অভাব, একটি বাইসাইকেলের আকুতি’ শিরোনামে “সময়ের কন্ঠস্বর” এ সংবাদটি প্রকাশিত হয়, তখন হয়তো খোদ আবু ছায়েদও ভাবেননি যে তার দীর্ঘদিনের সেই দীর্ঘশ্বাস এত দ্রুত কারো হৃদয়ে গিয়ে আঘাত করবে।মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক সহৃদয় শুভাকাঙ্ক্ষীর (যিনি নিজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) সময়ের কন্ঠস্বর এর কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক ছাইদুর রহমান নাঈম এর মাধ্যমে একটি নতুন বাইসাইকেল কিনে দিয়েছেন। আবু ছায়েদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি ঝকঝকে নতুন বাইসাইকেল। ৫৩ বছর বয়সী এই জীর্ণ শরীরের মানুষটির মুখে যে হাসি আজ ফুটেছে, তা কোনো দামী হীরা-জহরত দিয়ে কেনা সম্ভব নয়।আবু ছায়েদ আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার অনেক উপকার হলো বাজান। শেষ কবে এমন খুশি হইছি, মনে করতে পারি না। আগে রোদে পুইড়া, বৃষ্টিতে ভিজা ১০-১৫ কিলোমিটার পথ মাথায় কইরা সবজি নিয়া বাজারে যাইতাম। আধা টাকা তো ভাড়াতেই চইলা যাইত। এখন এই সাইকেল দিয়া নিজেই সবজি নিয়া যামু। যারা আমারে এই উপকার করল, আল্লায় তাগোর ভালা করুক।”সংসারের নানা জটিলতা দেখে সারাটা জীবন একা কাটিয়ে দিয়েছেন আবু ছায়েদ। দক্ষিণ-পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামের এই মানুষটির আপন বলতে কেউ নেই, সম্বল বলতে কেবল নিজের পরিশ্রম। জীর্ণ শরীর নিয়ে লাঙল ধরা আর সেই ফসল পায়ে হেঁটে সদরে নিয়ে যাওয়ার যে কষ্ট, একটি সাইকেল আজ তা এক নিমেষেই মুছে দিল।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
