চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি তেলের সংকট নিরসনে সোমবার (৩০ মার্চ) থেকে ফুয়েল কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে কার্যক্রম শুরুর পরপরই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মানুষের দীর্ঘ লাইন ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এ সময় লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, লাইনে আগে-পিছে দাঁড়ানো নিয়ে দুই ব্যক্তির মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে মারামারিতে রূপ নেয়। উপস্থিত সাংবাদিকরা ঘটনার ভিডিও করতে গেলে জড়িতরা দ্রুত সটকে পড়েন। তবে ১৭ সেকেন্ডের একটি মারামারির ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।এদিকে, লাইনের মাঝখানে এক ব্যক্তি নিজেকে সেনা সদস্য পরিচয় দিয়ে সামনে দাঁড়াতে গেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সেখানে দায়িত্বরত বিএনসিসি স্বেচ্ছাসেবকরা তাঁর পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে ওই ব্যক্তি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। ফলে তাঁর প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ.টি.এম. বি.এম. তারিকুজ্জামান জানিয়েছেন, সকাল ৯টা থেকে বৈধ কাগজপত্র জমা নেওয়া শুরু হয়েছে। আজ ও আগামীকাল (৩১ মার্চ) বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে। পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসন ফুয়েল কার্ড সরবরাহ করবেআগামী ১ এপ্রিল থেকে জেলার ২২টি পাম্পে এই কার্ড প্রদর্শন করে তেল সংগ্রহ করা যাবে। এর আগে ২৯ মার্চ জেলা প্রশাসনের এক জরুরি বৈঠকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল সরবরাহ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।সরেজমিনে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গার চারটি উপজেলা থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ তপ্ত রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, “দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে তেলের সঠিক বণ্টন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।”চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান জানিয়েছেন, লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল ও তেল মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, সীমান্ত দিয়ে তেল পাচার রোধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
