চৈত্রের হালকা উষ্ণ হাওয়া, গাছে গাছে নতুন পাতা আর ফুলের রঙে যখন প্রকৃতি সেজে ওঠে, তখনই বাংলার হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে ফিরে আসে এক প্রাচীন ঐতিহ্য—বাসন্তী পূজা। শারদীয় দুর্গাপূজার জাঁকজমকের বাইরে, এই পূজা যেন আরও নিবিড়, আরও আত্মিক। এরই ধারাবাহিকতায় রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় অনুষ্ঠিত হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাসন্তী পূজা।গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) শুরু হয়ে আজ শনিবার (২৮ মার্চ) বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে এ পূজা অর্চনা। তারাগঞ্জ কেন্দ্রীয় শিব মন্দিরে পাঁচ দিন ব্যাপি এ পূজায় ভক্ত পূর্ণার্থীদের উপস্থিতি ছিলো রেকর্ড পরিমাণ।ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বসন্তকালেই প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু হয়েছিল। পুরাণে রাজা সুরথের কাহিনি সেই প্রাচীনতার সাক্ষ্য বহন করে। যদিও সময়ের প্রবাহে শারদীয় দুর্গাপূজা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, বাসন্তী পূজা এখনও সেই আদি ধারার স্মারক হয়ে টিকে আছে।বর্তমান সময়ে বাসন্তী পূজা শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন পূজামণ্ডপে উঠে আসছে সামাজিক বার্তা। কোথাও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, কোথাও পরিবেশ রক্ষার আহ্বান—শিল্প ও প্রতিমার মাধ্যমে সমাজের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।গ্রামবাংলায় এখনও বাসন্তী পূজা অনেকটাই পারিবারিক ও ঐতিহ্যনির্ভর। বনেদি বাড়ির পূজায় দেখা যায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা নিয়ম-কানুন। অন্যদিকে শহরের পূজায় যুক্ত হয়েছে আধুনিক আয়োজন—সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকসজ্জা ও সামাজিক উদ্যোগ। এই দুই ধারার সম্মিলনই বাসন্তী পূজাকে দিয়েছে এক অনন্য বৈচিত্র্য।সুষ্ঠুভাবে বাসন্তি পূজা শেষ করতে পেরে দারুণ আনন্দিত পূজার আয়োজক কমিটির সকল সদস্যরা।
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
