জাতীয় দিবস উদযাপন ঘিরে প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রচলিত ‘চাঁদা আদায়’ সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিকুল ইসলাম। শুক্রবার (২৭ মার্চ) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।পোস্টে তিনি বলেন, স্বাধীনতা দিবস বা বিজয় দিবস এলেই একটি ভুল ধারণা ছড়িয়ে পড়ে—প্রশাসন নাকি চাঁদার টাকা আত্মসাৎ করে। এমনকি অনেক শিক্ষিত ও সচেতন মানুষও এই ধারণা পোষণ করেন, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।তিনি ব্যাখ্যা করেন, জাতীয় দিবস উদযাপনে আমন্ত্রণপত্র ছাপানো, আলোচনা সভা, স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কুচকাওয়াজ ও প্যারেড, ক্রীড়া অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়। বিশেষ করে প্যারেড আয়োজন, মাঠ সজ্জা, শিক্ষার্থীদের নাস্তা, সাউন্ড সিস্টেম, ব্যানার, পুরস্কার এবং অতিথি আপ্যায়নে বড় অঙ্কের বাজেট প্রয়োজন হয়।এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সম্মাননা, উপহার ও আপ্যায়নের জন্যও উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়, যা জাতীয় দিবসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে তিনি উল্লেখ করেন।ইউএনও তারিকুল ইসলাম জানান, চলতি বছর জাতীয় দিবস উদযাপনের জন্য সরকারি বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। ভ্যাট ও ট্যাক্স কর্তনের পর অবশিষ্ট থাকে ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৫০ টাকা। উপজেলা পরিষদ থেকেও কিছু অর্থ পাওয়া গেলেও, পুরো আয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল।তিনি বলেন, “জাতীয় দিবসের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদানের জন্য অতীতে অনেক সময় স্থানীয়ভাবে সহযোগিতা নেওয়ার প্রচলন ছিল।”তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ বছর বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় কারো কাছ থেকে কোনো ধরনের চাঁদা বা অনুদান নেওয়া হয়নি। সরকারি বরাদ্দ, উপজেলা পরিষদ এবং পৌরসভার সহায়তায় সকল কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।তার এই বক্তব্যে জাতীয় দিবস উদযাপন নিয়ে জনমনে থাকা নানা বিভ্রান্তি দূর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।পিএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
