উল্লাপাড়ার দর্শনীয় স্থানগুলো এখন ভ্রমণপিাসুদের পদচারণায় রমরমা। ঈদের দিন বিকেল থেকেই শত শত নারী-পুরুষের সমাগম হচ্ছে এসব স্থানে। উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থান হচ্ছে, পশ্চিমাঞ্চলে চলন বিলের বুক চিরে নির্মিত বাংলাপাড়া-উধুনিয়া ৩ কিলোমিটার সড়ক ও জনপথ বিভাগের পাকা সড়ক। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে চলনবিলের ব্যাপক জলরাশি, মুক্ত বাতাশ আর ঢেউয়ের সমন্বয়ে এখানে এক নান্দনিক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বর্ষা মৌসুম ছাড়াও বিভিন্ন উৎসব আয়োজনে বছরের প্রায় সব সময়ই বিকেল বেলা এই সড়কটি দর্শনার্থীদের পদচারণায় ভরপুর থাকে। ঐতিহাসিক স্থান হিসাবে পরিচিত উল্লাপাড়া সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে হাটিকুমরুল নবরত্ন মন্দির অঙ্গন। দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দিরের আদলে নবাব মুর্শিদকুলি খানের শাসনামলে ১৭০৪ থেকে ১৭২৮ সালের মধ্যে তৎকালীন রাজা রামনাথ ভাদুরী এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন। জনশ্রুতি আছে যে, এই মন্দিরের সমস্ত ইট সরিষার তেলে ভেঁজে নির্মান করা হয়। ১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ভূমিকম্পে ৪ তলা মন্দিরের নিচের তলা মাটিতে দেবে যায়। প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর অন্যন্য নিদর্শন এই মন্দিরটি এখন প্রত্নত্ত্ব বিভাগ দেখা শোনা করে থাকে। অপর ঐতিহাসিক স্থানটির মধ্যে রয়েছে উল্লাপাড়ার ঘাটিনায় করতোয়া নদীর উপর পাশাপাশি রেল ও সড়ক সেতুর স্থান। ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে এখানেই সিরাজগঞ্জ জেলায় পাক হানাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ সংঘঠিত হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় এখানে একটি স্মৃতি সৌধ তৈরি করেছে। এ ছাড়া করতোয়া নদীতে সোনতলা সড়ক সেতুর পাশেও রয়েছে দর্শনাথীদের ঘুরে বেড়ানোর মতো স্থান। বস্তুত প্রতিটি স্থানেই এখন বেলা ২টার পর থেকে দর্শনার্থীদের ভিড় করতে দেখা যাচ্ছে। হাটিকুমরুল নবরত্ন মন্দিরে বাইক নিয়ে উল্লাপাড়ার সদাই গ্রাম থেকে এসেছিলেন নাজমুল হক ও সাকিব হোসেন। তারা জানালেন, ছোট বেলায় নবরত্ন মন্দিরের কথা তাদের দাদা-দাদির কাছে শুনেছেন। একই উপজেলায় হলেও কখনও আসা হয়নি, দেখা হয়নি। এখানে এসে তাদের অনেক ভালো লেগেছে। বিশেষ করে তেলে ভাজা ইটে তৈরি মন্দিরের প্রাচীন স্থাপত্য শৈলী তাদেরকে আকর্ষণ করেছে। তারা এই মন্দির তৈরির ইতিহাসও মন্দির অঙ্গনে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের লাগানো একটি সাইনবোর্ডে দেওয়া তথ্য থেকে জানতে পেরেছেন। ঘাটিনা রেল সেতুর পাড়ে কথা হয় সলঙ্গা থেকে আসা কলেজছাত্রী জুই খাতুন ও নাসরিনের সঙ্গে। তারা জানালেন, ঘাটিনা রেল ও সড়ক সেতু দুটি পাশাপাশি অবস্থিত। মুক্তিযুদ্ধের সময় এখানে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ সংগঠিত হওয়ায় এই জায়গাটি তাদের জন্য খুবই আকর্ষণীয়। তাই তারা ৩৫ কিলোমিটার দূর থেকে সিএনজি নিয়ে এখানে এসেছেন। বস্তুত, ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী আরও এক সপ্তাহ জুড়ে উল্লাপাড়ার উল্লিখিত দর্শনীয় স্থানগুলোতে বিকেলবেলা শত শত নারী-পুরুষের সমাগম হয়।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
