৩ শতাধিক বছরের পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদীর ঘাটে স্নানোৎসবে লাখো পুণ্যার্থীর ঢল নেমেছে। হাজারো নারী-পুরুষের ভিড়ে নদীর আশপাশ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জাগতিক সব পাপ মোচনের আশায় এবং মুক্তির লক্ষ্যে ভগবানের কৃপা লাভের আশায় পুণ্যার্থীরা প্রতিবছর এখানে আসেন।বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোরে এগারসিন্দুর ইউনিয়নের মঠখোলা নামা বাজার এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে এই স্নানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে চলে দুপুর পর্যন্ত। পাশাপাশি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মাধ্যমে বিভিন্ন পূজার আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন করেন আগত পুণ্যার্থীরা।সকাল থেকে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে পুণ্যার্থীরা মঠখোলা এলাকায় আসতে শুরু করেন। কিশোরগঞ্জ ছাড়াও গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ স্থানটিকে পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে বিশ্বাস করেন। এখানে এসে স্নান করলে মনোবাসনা পূরণ হতে পারে—এই বিশ্বাস থেকেই সবাই এখানে আসেন।স্নানোৎসবে লোকারণ্য হয়ে ওঠে এলাকা। নদীর অপর পাশে গাজীপুর জেলা; সেখানেও মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। অনেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে নৌকায় করে আসেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতিতে নদীর ঘাটটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের অষ্টম তিথিতে এই স্নানোৎসব পালিত হয়। অতীতের সকল গ্লানি ও অশুভ কাজের বিনাশ কামনা করে ভগবানের কৃপা লাভই এই স্নানোৎসবের মূল লক্ষ্য বলে আগতরা জানিয়েছেন।নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকা থেকে আসা অজয় সরকার বলেন, “ভগবানের কৃপা লাভ ও অতীতের সকল মন্দ কাজ থেকে মুক্তির আশায় প্রতিবছর এই ঘাটে আসি। পিতার হাত ধরে প্রথম এখানে এসেছিলাম। এখন ৪৫ বছর ধরে আসছি। স্নানোৎসবে আমাদের একটাই চাওয়া—সবার মঙ্গল কামনা।”পুণ্যার্থী দীপা রাণী সূত্রধর বলেন, “এখানে হাজারো মানুষের ভিড়। স্নান শেষে কাপড় পরিবর্তনের জন্য কোনো আলাদা স্থান নেই, এতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। নারীদের জন্য আলাদা কয়েকটি ঘাট ও অস্থায়ী হলেও কাপড় পরিবর্তনের জন্য পর্দাঘেরা স্থান জরুরি। ব্রহ্মপুত্র নদীর এই স্নানোৎসব আমাদের পুরনো ঐতিহ্য।”পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাস্তার পাশে এবং নদীর আশপাশে পুলিশের টহল দেখা গেছে। স্নানোৎসব উপলক্ষে মেলাও বসেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খেলনার দোকানগুলোতে হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলমানদের উপস্থিতি ও কেনাকাটা সমানতালে লক্ষ্য করা গেছে।কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দীন স্নানোৎসবের ঘাট পরিদর্শন শেষে বলেন, “এটি হিন্দু সমাজের একটি বৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এই স্থানের ঐতিহ্য অনেক পুরনো। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থাও করা হবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা সবসময় সচেতন। ঘাটের যাবতীয় সমস্যা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকে আগত সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।”এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
