যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন এক কোভিড-১৯ ভ্যারিয়েন্ট BA.3.2 ছড়িয়ে পড়েছে, যা ইতোমধ্যে অন্তত ২৫টি অঙ্গরাজ্যে শনাক্ত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, এই ভ্যারিয়েন্ট আংশিকভাবে বর্তমান ভ্যাকসিনের সুরক্ষা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হতে পারে।গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক, টেক্সাসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এই ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী, ক্লিনিক্যাল নমুনা, বিমানের বর্জ্য পানি এবং ২০টির বেশি অঙ্গরাজ্যের ওয়েস্টওয়াটার নমুনায় এর অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে—যা এর বিস্তার আরও বেশি হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।ওমিক্রন থেকে উদ্ভূত BA.3.2 প্রথম শনাক্ত হয় ২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায়। যুক্তরাষ্ট্রে এটি প্রথম ধরা পড়ে ২০২৫ সালের জুনে এক আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীর শরীরে। বর্তমানে ২৩টির বেশি দেশে এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভ্যারিয়েন্টের স্পাইক প্রোটিনে ৭০টির বেশি জেনেটিক পরিবর্তন রয়েছে, যা ভাইরাসকে মানবদেহে সহজে প্রবেশ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এড়াতে সহায়তা করতে পারে। ল্যাব গবেষণায় দেখা গেছে, বিদ্যমান ভ্যাকসিন থেকে তৈরি অ্যান্টিবডি এর বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে কম কার্যকর।তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, BA.3.2 সংক্রমণ অন্য ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় বেশি মারাত্মক নয়। কিছু হাসপাতালে রোগী শনাক্ত হলেও তারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড এখন এন্ডেমিক পর্যায়ে থাকায় ভাইরাস নিয়মিত রূপ বদলাবে। তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা জরুরি। তারা সতর্ক করেছেন, গ্রীষ্মকালে সংক্রমণ আবারও বাড়তে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৩,৬০০ জনের বেশি মানুষ কোভিডে মারা গেছেন। যদিও বর্তমানে ফ্লু ও RSV সংক্রমণ কোভিডের তুলনায় বেশি প্রভাব ফেলছে, তবুও ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়নি।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
