পেট্রল ও অকটেন সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় পটুয়াখালীর গলাচিপায় জ্বালানি নিতে গাড়ির কাগজ যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাদের গাড়ির লাইসেন্স নেই তাদের চাবি রেখে দিয়ে গাড়ি আটকে দিচ্ছে প্রশাসন।বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে গলাচিপার মেসার্স রামনাবাদ এন্টারপ্রাইজের সামনে অন্তত ৫০০ মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। একপর্যায়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হলে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করতে দেখা গেছে মোটরসাইকেল চালকদের। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান উপস্থিত হন। জানা গেছে, বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং প্রকৃত যানবাহন মালিকদের মধ্যে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে তাদের উপস্থিতি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে লাইন দিয়ে মোটরসাইকেল চালকদের কাছে তেল বিক্রি শুরু হয়।মোটরসাইকেল চালক আলামিন জানান, “আমার গাড়ির কাগজ ছিল, কিন্তু হেলমেট না থাকায় আমাকে আটকে রাখা হয়েছে।”রামনাবাদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কাওসার নাঈম বলেন, “মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার তেল কম পেয়েছি। বুধবার মাত্র ১৬০০ লিটার সরবরাহ এসেছে, যেখানে দৈনিক চাহিদা ৫০০-৬০০ লিটার। অন্য ডিলারদের কাছে তেল না থাকায় আমাদের ওপর চাপ বেড়েছে। গলাচিপায় পেট্রল পাম্প না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।”এদিকে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খুচরা পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে পেট্রল ও অকটেন বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ভাড়াভিত্তিক মোটরসাইকেল চালকরা। প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় তারা নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করতে পারছেন না, ফলে তাদের আয় ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না।স্থানীয় ব্যবসায়ী মিল্টন কুমার অভিযোগ করেন, “কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় তেল মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।”অন্যদিকে, যাত্রী মাহিয়ান আল জাহিদ বলেন, “ভাড়ায় মোটরসাইকেল পাওয়া যাচ্ছে না, আর যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।”চাকরিজীবী রাব্বি তালুকদার জানান, “পৌরসভার বাইরে অনেক জায়গায় প্রতি লিটার পেট্রল ১৫০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি।”এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান বলেন, “তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই, দু-এক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তবে সন্ধ্যায় মোটরসাইকেল চালকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোন তেল মজুদ পেলে বাজেয়াপ্ত করা হবে। এছাড়া বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার তেল বিক্রেতাদের সাথে সভা ডাকা হয়েছে সেখানে সংকট মোকাবিলা ও তেল বিক্রি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হবে।”এদিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, অবৈধ মজুতদারি বন্ধ করা এবং নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি বিক্রি নিশ্চিত করতে মধ্যরাত পর্যন্ত পৌরশহরের বেশ কয়েকটি জ্বালানি তেলের দোকান, ডিলার পয়েন্টে ও গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে যৌথবাহিনি। অবৈধ মজুদ বন্ধ ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে তেল বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হয়।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
