টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রত্না বেগম নামে এক প্রসূতিকে অপারেশন সম্পন্ন না করে মুমূর্ষূ অবস্থায় রেফার্ড করার অভিযোগ উঠেছে। ওই প্রসূতি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কন্যা সন্তান জন্ম দিলেও ১২ ঘন্টা পার হলেও তাঁর জ্ঞান ফিরেনি।সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মির্জাপুর জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রাইভেট ক্লিনিকে এই ঘটনা ঘটে। স্বজনদের অভিযোগ ক্লিনিকের গাফলতির কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় ওই প্রসূতির বাবা দেওয়ান বছির উদ্দিন মির্জাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিনে জানা যায়, সোমবার দুপুরে উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের ছলিমনগর গ্রামের দেওয়ান বছির উদ্দিনের মেয়ে রত্না বেগমের প্রসব বেদনা শুরু হয়। প্রথমে মির্জাপুর ন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কুমুদিনী হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পথিমথ্যে অবস্থা জটিল হওয়ায় মির্জাপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রসূতিকে ভর্তি করেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রসূতিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। এরপর ক্লিনিকের ডাঃ রিমি দে তাঁর অস্ত্রোপচার করেন। তবে নবজাতককে বের করতে না পেরে তাড়াহুড়ি করে পেটে সেলাই দিয়ে কুমিদিনী হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ভর্তি না করে ঢাকা নিয়ে যেতে বলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে রাত সাড়ে ৯টার সময় মির্জাপুর থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান এবং ভোরে ভর্তি করেন। মঙ্গলবার সকালে তার অস্ত্রোপচার করেন। ওই প্রসূতি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। তবে ১২ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও তার জ্ঞান ফিরেনি। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে প্রসূতির বাবা দেওয়ান বছির উদ্দিন বাদী হয়ে ক্লিনিক মালিক আলম মিয়াসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করেন।মির্জাপুর জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রাইভেট ক্লিনিকের ডাঃ রিমি দে বলেন, আমাদের ক্লিনিকে যে পরীক্ষা করা হয়েছিল সেই কাগজগুলো দেখিয়েছে। ওই রোগীকে অপারেশনে নেওয়া হয়েছিল। বাচ্চাটা বের করলে রোগীর ক্ষতি হতো। কারণ ফুলটা ছিল সামনে দিকে। অন্য একটি ক্লিনিক থেকে ফেরত দিয়েছে সেটি আমি জানি না। আমাদের ক্লিনিকে ভর্তি করা ঠিক হয়নি।মির্জাপুর জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রাইভেট ক্লিনিকের মালিক আলম মিয়াকে মুঠো ফোনে কল দিলে রোগীকে রেফার্ড করা হয়েছে বলে শুনেছি। আমি পরে কথা বলবো এই বলে কল কেটে দেন।মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল আহমেদ বলেন, এঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।পিএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
