কক্সবাজারের পেকুয়ায় স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ঘাতক স্বামীকে আটক করেছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ। সৌদি আরব থেকে তিন মাসের ছুটিতে এসে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় সে। গত শুক্রবার (১৯ মার্চ) দুপুরের দিকে পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মেহেরনামা মোরারপাড়া এলাকায় স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে হত্যার এ ঘটনা ঘটে। পরে লাশ রশি দিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে স্বামী পালিয়ে যায়। নিহত নারী শাহিদা বেগম (২৭) মুরার পাড়া এলাকার সৌদি প্রবাসী মকসুদ আহমদের স্ত্রী এবং সদর ইউনিয়েন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আন্নর আলী মাতবর পাড়া এলাকার বদিউল আলম ড্রাইভারের মেয়ে। নিহত শাহিদা বেগমের পিতা বদিউল আলম বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে আমার মেয়েকে প্রচন্ড মারধর করে। মারধরের এক পর্যায়ে বালিশ চাপা দিয়ে মেয়েকে হত্যা করে, এরপর ঠান্ডা মাথায় আমার মেয়েকে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে কোন কিছু করতে না পেরে স্বামী মৃতদেহ রেখে পালিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ঘাতক স্বামী তিন মাসে আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ছুটিতে আসেন। আগামী কয়েকদিন পর চলে যাওয়ার কথা ছিল। ঘটনার পরপর থানায় এসে মামলা করি এবং থানা থেকে সাথে সাথে ঢাকা এবং চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশকে অবহিত করা হয় যেন পালিয়ে চলে যেতে না পারে। কিন্তু শনিবার দুপুর ২ টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সৌদি আরব চলে যাওয়ার সময় তাকে আটক করে। স্থানীয়রা জানান, শাহিদা বেগমের সাথে সৌদি প্রবাসী মকসুদ আহমদের সাথে ১০ বছর আগে বিয়ে হয়। শাহিদা ও মকসুদ দম্পতির কোন ছেলে মেয়ে নেই। তবে ৫ বছর বয়সী একটি পালিত কন্যা সন্তান রয়েছে বলে জানা যায়। পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাইরুল আলম আসামীকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা মোরারপাড়া এলাকায় স্ত্রী হত্যাকান্ডের ঘটনায় ঘাতক স্বামীকে গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে পুলিশ আটক করে। তাকে নিয়ে আসতে থানা থেকে পুলিশের একটি টিম ঢাকায় রওনা দিয়েছে।এদিকে গতকাল আসরের নামাজের পর নিহত শাহিদা বেগমের ময়নাতদন্ত শেষে পেকুয়া উপজেলার মাতব্বরপাড়া এলাকায় জানাজার পর দাফন করা হয়।পিএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
