বরগুনার তালতলীতে চোর সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে মোতালেব আকন (৭০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোর ৬ টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত মোতালেব আকন পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন লতাচাপলী ইউনিয়নের তুলাতুলি গ্রামের বাসিন্দা।পরিবার সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন লতাচাপলী ইউনিয়নের তুলাতুলি গ্রামের মোতালেব আকন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। গত ১৭ মার্চ হঠাৎ করে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের বরগুনার তালতলী উপজেলায় আত্মীয় বাড়ি যান মোতালেব আকন। হয়ে যান। এরপর থেকেই পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ঐ দিনই রাতেই তালতলী উপজেলার শারীরিক খালী এলাকার কিছু ব্যক্তি তাকে চোর সন্দেহে আটক করে। এরপরে স্থানীয় নিরব (২৭), জহির হাং (২৮), আল-আমিন (৩০)সহ অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জন তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলে। এরপর সারারাত নির্মম নির্যাতন করে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ফেলে রেখে যায় ও গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে সকালবেলা স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ প্রথমে তাকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বরিশাল নেওয়ার পরও তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথে ভোর ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।স্থানীয় বাসিন্দা ছগির বলেন, ‘একজন অসুস্থ মানুষকে গাছের সঙ্গে বেঁধে যেভাবে মারা হয়েছে, তা অত্যন্ত নৃশংস। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’এ বিষয়ে তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। নিহতের বড় ছেলে মোয়াজ্জেম আকন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নম্বর-১২)। ইতোমধ্যে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে এবং তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’তিনি আরও বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
