ঈদের আর মাত্র দুদিন বাকি। চারদিকে উৎসবের আমেজ থাকলেও ভোলার জেলে পল্লীগুলোতে নেই কোনো আনন্দের ছোঁয়া। বরং সেখানে বিরাজ করছে হতাশা, অনিশ্চয়তা আর নীরব হাহাকার। জীবিকার প্রধান অবলম্বন নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন ভোলার দই লক্ষাধিক জেলে। এর মধ্যে সরকার ঘোষিত খাদ্য সহায়তার চাল এখনো না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে ৪টি উপজেলায় কিছু জেলেদের মাঝে খাদ্য সহায়তার চাল বিতরণ করা হলেও চরফ্যাশন উপজেলার চাল বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়াও ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার খাদ্য গুদামে চাল না থাকায় বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে দ্রুত সেসব উপজেলায় চাল বিতরণ করার আশ্বাস দিয়েছেন মৎস্য বিভাগ। এদিকে চাল না পেয়ে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন জেলেরা । তারা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার পর থেকেই তাদের আয়-রোজগার বন্ধ রয়েছে। এমন অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে তাদের। ঈদকে সামনে রেখে যেখানে নতুন কাপড়, ভালো খাবারের স্বপ্ন দেখার কথা, সেখানে দুবেলা খাবার জোগাড় করাই হয়ে উঠেছে তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।ভোলা সদর উপজেলার ভোলার খাল মাছঘাটের জেলে শফিকুল ইসলাম সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, “দু’দিন পরেই ঈদ, কিন্তু ঘরে খাবার নেই। ধারদেনা করে সংসার চলছে। চাল পেলে কিছুটা দুশ্চিন্তা মুক্ত হতে পারতাম। চাল না পেলে পরিবার নিয়ে দু’বেলা দুমুঠো ভাত খেতেই কষ্ট হয়ে দাড়াবে। ঈদ কিভাবে করবো, তা বুঝতে পারছি না।”মাঝিরহাট মাছঘাটের জেলে ইয়াছিন মাঝি জানান, “নিষেধাজ্ঞার আগে আমরা দাবী জানিয়েছিলাম যেনো নিষেধাজ্ঞার সময়ে এনজিওর কিস্তি বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু কিস্তি বন্ধ রাখা হয়নি। আমাদের কোন আয় রোজগার নেই, এনজিওর কিস্তির ভয়ে এখন আমাদের পালিয়ে বেড়াতে হয়। এর মধ্যে, এখনো আমাদের খাদ্য সহায়তার চাল বিতরণ করা হয়নি। এতে আমাদের কষ্ট আরও দ্বিগুণ বেড়েছে।”তুলাতুলি মাছঘাটের রুবেল মাঝি বলেন, “এরআগে নিষেধাজ্ঞার প্রথম সপ্তাহে আমাদের চাল বিতরণ করা হতো। কিন্তু এবার অভিযানের ১৮ দিন পার হলেও আমাদের চাল দেওয়া হচ্ছে না। এখন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নেই।”ঈদের আনন্দ যখন সবার ঘরে পৌঁছানোর কথা, ঠিক তখনই ভোলার জেলে পল্লীতে চলছে বেঁচে থাকার সংগ্রাম। সময়মতো খাদ্য সহায়তার চাল না পেয়ে চরম কষ্ট আর দুর্দশায় চলছে তাদের জীবনযাপন। তাদের দাবী, দ্রুত খাদ্য সহায়তার চাল যেন তাদের মাঝে বিতরণ করা হয়। এতে কিছুটা হলেও তাদের কষ্ট লাঘব হবে।এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার মো. ইকবাল হোসেন সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, জেলার ৭ টি উপজেলার মধ্যে ৪টি উপজেলায় চাল বিতরণ শেষের পথে। একটি উপজেলায় চাল বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়াও ভোলা ও দৌলতখান উপজেলার খাদ্য গুদামে চাল না থাকায় বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে দ্রুতই সরবরাহ নিশ্চিত করে বঞ্চিত জেলেদের মাঝে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।এছাড়াও এনজিওর কিস্তি বন্ধ রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা এনজিও গুলোকে চিঠি দিয়েছি, কিন্তু সেগুলো আমাদের আয়ত্তের বাহিরে। সামনে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মিটিং রয়েছে, সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। উল্লেখ, ঝাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে ভোলার মেঘনা–তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার অভয়াশ্রমে মার্চ ও এপ্রিল দুই মাস সকল প্রকার মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন ভোলার নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত প্রায় ৩ লক্ষাধিক জেলে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
