উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে গড়ে ওঠা প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের উৎপাদিত বীজ আলু দেশের শীর্ষ কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার কৃষকদের কাছেও ব্যাপকভাবে সমাদৃত। প্রতি বছর আলু রোপণের মৌসুম এলেই দেশজুড়ে চাষিদের মধ্যে এখানকার বীজ আলু সংগ্রহের তোড়জোড় শুরু হয়।প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রটিতে বর্তমানে মোট ৪৫ জাতের বীজ আলু উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে বারি আলু-১৩ (গ্রানুলা), বারি আলু-২৯ (কারেজ), বারি আলু-৭ (ডায়মন্ড) ও বারি আলু-২৫ (স্টারিক্স) সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন।শুধু আলুই নয়, এই কেন্দ্র থেকে গম, ধান, সরিষা, ল্যাভেন্ডার, সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন ফসলের জাত উন্নয়ন ও নতুন জাত উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে অন্যান্য ফসলের তুলনায় এখানকার বীজ আলুই সারা দেশে বেশি পরিচিত ও চাহিদাসম্পন্ন।এত চাহিদার পরও প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বীজ আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেও নষ্ট হচ্ছে। অথচ নিয়মিতভাবে হিমাগারের যন্ত্রপাতি ও কম্প্রেসার রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। বিপুল ব্যয়ের পরও বীজ আলুর পচন রোধ করা যাচ্ছে না।প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, গত ছয় বছরে শুধু হিমাগার রক্ষণাবেক্ষণেই প্রায় ৬০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করা হয়েছে। সরকারের এত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হলেও বীজ আলুর পচন কোনোভাবেই ঠেকানো সম্ভব হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, হিমাগার অপারেটর ও টেকনিশিয়ানদের অদক্ষতা এবং নিম্নমানের কম্প্রেসার বারবার নষ্ট হওয়ায় ব্যয় বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না।একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, তামার পরিবর্তে অ্যালুমিনিয়াম তারযুক্ত কম্প্রেসার সরবরাহ করায় বারবার কম্প্রেসার পুড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে।এদিকে প্রতিষ্ঠানটিতে একাধিক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা থাকলেও বীজ আলুর পচন রোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রতি বছর নষ্ট হওয়া বীজ আলুর পরিমাণ কমানো সম্ভব হচ্ছে না।প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত অর্থবছরের মৌসুমে বিভিন্ন জাতের মোট ৬৫৩ মেট্রিক টন বীজ আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭-৮ শতাংশ, অর্থাৎ ৪৫ থেকে ৫২ মেট্রিক টন বীজ আলু নষ্ট হয়। এভাবে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বীজ আলু নষ্ট হওয়ায় সরকারের মোটা অঙ্কের অর্থ অপচয় হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, চলতি মৌসুমেও বীজ আলু নষ্টের পরিমাণ ৩০-৪০ মেট্রিক টনে পৌঁছাতে পারে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির একাধিক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জানান, আলু একটি পচনশীল ফসল। এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু বীজ উৎপাদন কেন্দ্র নয়, একই সঙ্গে একটি গবেষণাগার। বিভিন্ন জাতের আলুর জাতোন্নয়নে ধারাবাহিক গবেষণা পরিচালনা করতে হয়। জাতোন্নয়ন মানে শুধু সফলতা নয়, ব্যর্থতাও গবেষণার অংশ, যা ভবিষ্যতে উন্নত জাত উদ্ভাবনে সহায়ক ভূমিকা রাখে।সার্বিক বিষয়ে প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, বীজ আলু স্বভাবগতভাবেই পচনশীল। পাশাপাশি আমাদের হিমাগারটি সেকেলে। নতুন একটি হিমাগার স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। সেটি বাস্তবায়ন হলে এই সমস্যাটি অনেকটাই কমে আসবে।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
