বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে মারা যান নিরব হোসেন (৫৫)। এই ঘটনার পর তার পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।বৃহস্পতিবার তার জানাজায় বিএনপির নেতারা উপস্থিত থেকে তারেক রহমানের পক্ষে এই ঘোষণা দেন।নিরব হোসেনের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর-তাঁতেরকাঠী ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামে। ঢাকার বড় মগবাজার এলাকার ডাক্তার গলিতে একটি ভাড়া বাসায় তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকুরি করেই সংসার চালাতেন।নিরবের একমাত্র ছেলে তাহসীন হোসেন নাহিয়ান (১৫) গত বছরের জুলাই মাসে অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ওই বছরের ৪ আগস্ট ঢাকার ধানমন্ডি সাইন্স ল্যাব এলাকায় মেরুদণ্ডে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি পঙ্গুত্ব বরণ করতে বাধ্য হন। বুধবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে মো. নিরব হোসেন মারা যাওয়ার সময়ও তার ছেলে তাহসীন ঢাকার সিএমইচ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় স্থানীয় বড় ডালিমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে নিরব হোসেনকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদার জানাজায় অংশ নেন।বিএনপি নেতা আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, “তিনি তারেক রহমানের নির্দেশে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এসেছেন নিহতের পরিবারের খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য। বিএনপি ও তারেক রহমান সব সময় নিহত নিরব হোসেন এবং জুলাই যোদ্ধা তাহসীন হোসেনের পরিবারের পাশে থাকবেন।”নিরব হোসেনের স্ত্রী তাহেরা বেগম (৪০) বলেন, “সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামীকে হারিয়ে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। পঙ্গুত্ববরণ করা ছেলে তাহসীন, মেয়ে নাফিজা নওরীনসহ তিন সদস্যের সংসার। আমাদের পরিবারের পাশে থাকায় তারেক রহমান ও তার দলকে আমরা চীরকৃতজ্ঞ।”এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
