নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই সঞ্চইপত্রে সুদহার কমিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) থেকে কেনা সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে মুনাফা মিলবে গড়ে সাড়ে ১০ শতাংশের কাছাকাছি, যা এতদিন ছিল প্রায় ১২ শতাংশ।আগামী ছয় মাস-জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কেনা সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে নতুন এই হার কার্যকর হবে। তবে আগে কেনা সঞ্চয়পত্রে আগের হারেই মুনাফা পাবেন গ্রাহকরা।বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা একটি সার্কুলার থেকে এ তথ্য জানা গেছে। বর্তমানে সরকার চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রেখেছে। পাশাপাশি পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিট নামে একটি সঞ্চয় স্কিম রয়েছে। প্রতিটি স্কিমে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের জন্য এক হার এবং এর বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আলাদা হার নির্ধারণ করা হয়। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। এ ছাড়া ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাব ও প্রবাসীদের জন্য তিন ধরনের বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে, যেখানে সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা বা তার কম বিনিয়োগে মেয়াদ শেষে মুনাফা পাওয়া যাবে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ হারে। গত জুলাই–ডিসেম্বরে যা ছিল ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এর বেশি বিনিয়োগে মুনাফা কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে।তিন বছর মেয়াদি তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। আগে এটি ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। এর বেশি বিনিয়োগে মুনাফা পাওয়া যাবে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ।পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফা কমিয়ে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এর বেশি বিনিয়োগে মুনাফা হবে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।একইভাবে, পাঁচ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এর বেশি বিনিয়োগে মুনাফা মিলবে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ হারে।এ ছাড়া তিন বছর মেয়াদি পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিট হিসাবেও মুনাফা কমেছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফা পাওয়া যাবে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। মেয়াদ পূর্তির আগে সঞ্চয়পত্র ভাঙানো হলে বিভিন্ন বছরে মুনাফা আরও কম হারে দেওয়া হবে।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
