বছরের শুরুতেই বরিশাল জেলায় প্রাথমিক পর্যায়ে শতভাগ বই পৌঁছালেও মাধ্যমিক পর্যায়ে চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৬৭ ভাগ বই এসেছে। এর মধ্যে অষ্টম শ্রেণির কোনো বই শিক্ষার্থীরা পায়নি।প্রাথমিক ও জেলা শিক্ষা অফিস এ তথ্য জানিয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিস জানায়, বরিশাল জেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ের অন্তত ৬৭ ভাগ শিক্ষার্থী বই পেয়েছে। বাকি বই কয়েক দিনের মধ্যে আসবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা মিলিয়ে জেলার ৮৯৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৭০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৩৪ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৬টি বইয়ের চাহিদা ছিল। এর বিপরীতে মোটামুটি ৬০ ভাগ শিক্ষার্থী বই পেয়েছে। এর মধ্যে স্কুল পর্যায়ে ৬৭ ভাগ, কারিগরি পর্যায়ে ২৫ ভাগ এবং ইবতেদায়ী পর্যায়ে ১০০ ভাগ বই বিতরণ করা হয়েছে। তবে ইংরেজি ভার্সনে কোনো বই পাওয়া যায়নি।বরিশাল জেলা শিক্ষা অফিসের গবেষণা কর্মকর্তা নিটুল মণ্ডল জানান, মাধ্যমিকের স্কুল পর্যায়ে ২১ লাখ ৭ হাজার ৫০২টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে প্রায় ৭০ ভাগ বই এসেছে। এর মধ্যে অষ্টম শ্রেণির কোনো বই এখনো আসেনি।তিনি আরও জানান, মাদ্রাসা পর্যায়ে ৭ লাখ ৯৩ হাজার ৪৭৯টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে প্রায় ৩০ ভাগ বই এসেছে। ইবতেদায়ী পর্যায়ে ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৩৯০টি বইয়ের বিপরীতে শতভাগ বই এসেছে। অন্যদিকে দাখিল ভোকেশনালে ২ হাজার ৮১০টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে ২৫ ভাগ, এসএসসি ভোকেশনালে ৩৪ হাজার ১৭০টির বিপরীতে ২৫ ভাগ এবং স্কুল পর্যায়ের কারিগরি ট্রেডে ২৮ হাজার ৭১০টির বিপরীতে ২৫ ভাগ বই এসেছে। ইংরেজি ভার্সনে ১২ হাজার ৩১৫টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে এখনো কোনো বই আসেনি।বরিশাল জেলা শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল জব্বার বলেন, “বরিশাল জেলায় অন্তত ৭০ ভাগ বই এসেছে। বাকি বই কয়েক দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।”তিনি আরও জানান, “অষ্টম শ্রেণির কোনো বই এই মুহূর্তে আসেনি। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, এসব বই আসতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।”অন্যদিকে বরিশাল জেলায় প্রাথমিক পর্যায়ে ১ হাজার ৫৮৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১৩৫টি বেসরকারি স্কুল ও কিন্ডারগার্টেনের ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮১৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১১ লাখ ৬৭ হাজার ২০৮টি বইয়ের বিপরীতে শতভাগ বই এসেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোস্তফা কামাল।অক্সফোর্ড মিশন হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক পলিনুস গুদা জানান, তাঁদের স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯১৫ জন। এর মধ্যে চাহিদার ৫০ ভাগের বেশি বই তারা পেয়েছেন। তবে অষ্টম শ্রেণির কোনো বই এখনো পাওয়া যায়নি।নগরীর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী অভি বিশ্বাস জানায়, “ধর্ম বই বাদে অন্য সব বই পেয়েছি। বছরের শুরুতেই বই পেয়ে খুব ভালো লাগছে।”জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানায়, ইতোমধ্যে প্রাথমিকের সাধারণ শ্রেণির শতভাগ বই সরবরাহের পাশাপাশি বই বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।এদিকে ইংরেজি ভার্সনের ৭ হাজার ৪৪০টি বইয়ের বিপরীতে ৫০ ভাগ বই বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি বই এক–দুই দিনের মধ্যে বিতরণ শেষ হবে। প্রাথমিক ও জেলা শিক্ষা অফিস জানায়, এবার বই বিতরণ কোনো উৎসব আকারে করা হবে না; বরং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা সরাসরি শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেবেন।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
