রাশিয়ার ওপর আরোপিত জ্বালানি তেলের নিষেধাজ্ঞায় যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় বিশেষ ছাড় দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় দেশটির একাধিক তেল শোধনাগার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতভর চালানো এই হামলায় রাশিয়ার সামারা অঞ্চলের দুটি শোধনাগারসহ বেশ কিছু কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট মাদিয়ার ব্রোভদি দাবি করেছেন, তাদের ড্রোন রাশিয়ার সামারা অঞ্চলের নোভোকুইবিশেভস্ক ও সিজরান তেল শোধনাগার, ক্রাসনোদর অঞ্চলের তিখোরেতস্ক তেল টার্মিনাল, বাল্টিক সাগরের ভিসোটস্ক বন্দর এবং অধিকৃত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপলের একটি তেল ডিপোতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সরাসরি হামলার কথা স্বীকার না করলেও জানিয়েছে, তারা রাতভর ২৫৮টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে স্থানীয় রুশ কর্তৃপক্ষগুলো ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।সামারা অঞ্চলের গভর্নর ভ্যাচেস্লাভ ফেদোরিশচেভ শিল্প স্থাপনায় হামলার খবর জানিয়েছেন। ক্রাসনোদর অঞ্চলের জরুরি বিভাগ জানিয়েছে, তিখোরেতস্কের তেল ডিপোর আগুন নিয়ন্ত্রণে ২২৪ জন কর্মী কাজ করছে। এছাড়া লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের ভিসোটস্ক বন্দরে ড্রোন হামলার কারণে সৃষ্ট আগুন নিভিয়ে ফেলার তথ্য জানিয়েছেন সেখানকার গভর্নর।ইউক্রেনীয় কমান্ডার ব্রোভদি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া বিশেষ ছাড়ের সরাসরি প্রতিক্রিয়া।তিনি ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তকে ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ১৬ মে পর্যন্ত রাশিয়ার তেল বিক্রির এই অনুমতির মূল্য ইউক্রেনীয়দের জীবনের বিনিময়ে দিতে হচ্ছে।ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যের ওপর তৈরি হওয়া চাপ কমাতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন প্রশাসন।এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির অনুমতি দেয়ার এই পদক্ষেপ মার্কিন প্রশাসন দ্বিতীয়বারের মতো নিয়েছে। আগের ছাড়ের মেয়াদ ১১ এপ্রিল শেষ হয়েছিল।যদিও মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, এই ছাড় নবায়ন করা হবে না। তবে শুক্রবার শেষ মুহূর্তে ১০ কোটি ব্যারেল তেলের ওপর পুনরায় ছাড় দেয়া হয়।আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তেলের উচ্চমূল্য ও এই ছাড়ের ফলে রাশিয়ার জ্বালানি রাজস্ব গত এক মাসে দ্বিগুণ হয়ে ১৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা সরাসরি মস্কোর যুদ্ধ তহবিলে সহায়তা করছে। সূত্র- সিএনএনএবি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
