গত এক মাস ধরে হঠাৎ করে বরিশাল নগরজুড়ে বেড়েছে চুরি। নানা কৌশলে চলমান চুরির ঘটনা যেন নিত্যদিনের হয়ে দাড়িয়েছে। চোর চক্রের কৌশলীতে প্রায় শতাধিক পরিবার নিঃশ্ব হয়েছে। দিন দিন এমন ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরবাসীর মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।চুরি ঘটনা এখন দিন নয়, রাত নয়, দুপুর নয় চব্বিশ ঘন্টাই চোর চক্রের সদস্যরা থাকে র্টাগেটে। বরিশাল নগরীতে একের পর এক ঘটছে চুরির ঘটনা। তবে চুরির ঘটনাটি যেন চোর চক্রের কাছে কিছু নয়, এখন হয়ে দাড়িয়েছে।বর্তমানে নগরবাসীর কাছে আতঙ্ক চোর। তবে চুরির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না কোনো পেশাজীবী মানুষই। সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেলেও অধিকাংশ ঘটনারই রহস্য উদঘাটন করতে পারছে না পুলিশ। তবে নগরবাসীর অভিযোগ চোর চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামন।সাম্প্রতিক, গত ২২ ডিসেম্বর রাতে নগরীর আলেকান্দা কাজিপাড়া এলাকায় সাংবাদিক আরিফুর রহমানের বাসায় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। এর তিন দিন পাড় হতে না হতেই এবার ২৫ ডিসেম্বর বড় দিন উপলক্ষে সরকারী ছুটিতে নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ডের ফকির বাড়ি রোর্ডের সিহাব ভিলা ও বরিশালের দৈনিক কলমের কন্ঠ ও জাতীয় দৈনিক আমার সংবাদ পত্রিকা অফিসের ভবনে দিন-দুপুরে চুরির ঘটনা ঘটেছে।ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরিফ হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১২ টায় প্রতিদিনের মত তিনি নগরীর ফকির বাড়ি রোডস্থ দৈনিক কলমের কন্ঠ ও আমার সংবাদ, বিজয় টিভির বরিশাল ব্যুরো অফিসে অফিসে যান। অফিসে ঢুকতে তিনি দেখতে পান দ্বিতীয় তলার দরজা খোলা রয়েছে। পরে ভিতরে প্রবেশ করে দেখতে পান একটি লোক তার কাধে একটি স্কুল ব্যাগ নিয়ে দারিড়ে রয়েছে। তখন সাংবাদিক আরিফ হোসেন তার কাজে জিজ্ঞেস করেন আপনি কে, কেন এখানে এসেছেন বলতেই চোর চক্রর সদস্য দ্রুত রুম থেকে বের হয়ে গিয়ে বাহির থেকে দরজা আটকে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।পরে চোর চক্র শনাক্তর জন্য ভবনে থাকা সিসি টিভির ক্যামেরা চেক করে ভিডিও ফুটেজ ও চোর চক্রর ছবি বের করে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় গিয়ে বিষয়টি ডিউটি অফিসার এস আই রুনু সরকার এর সাথে আলাপ করলে দায়িত্বে থাকা এস আই রুনু সরকার চোর চক্রটির ছবি দেখতে চান। পরে ভুক্তভোগী চোরের ছবিটি তাকে দেখানোর সাথে সাথেই চোর চক্রের সদস্যকে চিনিতে পারেন পুলিশ।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী চোরটির নাম হলো বশির চোরা। তার বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার ১২ নং রঙ্গশ্রী ইউনয়নের গড়িয়া গ্রাম। চোর বশিরের বাবার নাম জব্বার মোল্লা। কিছু দিন আগে তাকে একটি চুরি মামলায় গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসছিলেন পুলিশ। পরে আলাদতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়। এই চোরা বশিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় প্রায় ৩০ টির উপরে চুরি মামলা রয়েছে। তাকে পুলিশ খোঁজে বেড়াচ্ছে। এর কাজই হলো দিন-দুপুরে চুরি করা।বরিশাল মেট্টোপলিটন পুলিশের অধিনে থাকা ৪ থানায় বাড়ছে চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ এবং মামলা দায়ের সংখ্যা। তবে গত দুই মাসে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কমপক্ষে শতাধিক চুরির ঘটনার খবর পাওয়া গেলেও অধিকাংশ ঘটনাই এখনো উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। আটক হচ্ছে না কোনো চোর চক্রের সদস্য কিবা মূল হোতা।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই মাসে নগরী ও তার আশপাশের এলাকায় কমপক্ষে শতাধিক রহস্য জনক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এমনকি দিনের আলোতে দোকানের তালা ভেঙে ট্রাক ভর্তি করে মালামাল নিয়ে যাওয়ার, দিন দুপুরে পত্রিকা অফিসের তালা ভেঙ্গে চুরি , আর রাতের আঁধারে সাংবাদিকের বাসায় চুরি, ব্রজমোহন কলেজ গেট থেকে টাকা ছিনতাই। এসব অপরাধের সাথে জড়িত অনেককেই আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেট্টেপলিটন পুলিশের কমিশনার। তবে বেশিরভাগ মানুষই থানায় অভিযোগও জানাতে যায় না।সুজন সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা বলেন,’আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীকে চুপ থাকলে চলবে না। আইনের আওতায় এনে অপরাধীদের বিচার করতে হবে।’ ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরিফ হোসেন বলেন, চলতি মাসের ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১২ টায় প্রতিদিনের মত ২৫ ডিসেম্বর দুপুরে নগরীর ফকির বাড়ি রোডস্থ দৈনিক কলমের কন্ঠ ও আমার সংবাদ অফিসে চুরির ঘটনা ঘটে।তবে কয়েকটি চুরি ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার এস আই রুনু সরকার জানিয়েছেন, নগরীতে চুরির ঘটনার সাথে বেশির ভাগই জড়িত রয়েছেন বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার ১২ নং রঙ্গশ্রী ইউনয়নের গড়িয়া গ্রাম জব্বার মোল্লার ছেলে চোর বশির। ভুক্তভুগীরা যে চোরের ছবি দেখাতে আসে সেগুলো অধিকাংশই চোর বশিরের। তিনি আরো বলেন, এই চোরা বশিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় প্রায় ৩০ টির উপরে চুরি মামলা রয়েছে। তাকে পুলিশ খোঁজে বেড়াচ্ছে। এবিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন উর রহমান জানান, চুরি‘র ঘটনায় যে অভিযোগ গুলো থানায় আসছে সেগুলো দ্রুত তদন্ত করা হচ্ছে। চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটক করতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অধিকাংশ চুরির ঘটনায় মামলা না হওয়ায় তদন্ত কার্যক্রমে তেমন অগ্রগতি হয় না। তবে নগরীতে চুরি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে পুলিশ। ’নজদারী বাড়ানো এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করে এ অপরাধগুলো কমিনে আনা হবে।’ আইনশৃঙ্খলাবাহিনী আরও কঠোর নজরদারি বাড়িয়ে অপরাধ দমনে সফল হবে এমন আশা নগরবাসীর।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
