চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ভূমিহীন পরিবারের দুটি ঘর উচ্ছেদ করতে গিয়ে বনবিভাগের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বনবিভাগের ফাঁকা গুলি বর্ষণ ও লাঠিচার্জে ৮ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।রবিবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে পদুয়া ইউনিয়নের পূর্ব খুরুশিয়া ভোলা টিলায় এ ঘটনা ঘটে।উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী বন সংরক্ষক দেলোয়ার হোসেন। সঙ্গে ছিলেন খুরুশিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, পোমরা রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াদুর রহমান এবং ৩৫ জনের সঙ্গীয় ফোর্স।ঘটনাস্থলে পৌঁছে বনবিভাগ প্রথমে উচ্ছেদযোগ্য ঘরগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এ সময় গৃহকর্তা আহমদ নবী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া উচ্ছেদ স্থগিতের আবেদনের কপি দেখালে বনকর্মীরা তাকে লাঠিপেটা করেন। এতে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুললে বনবিভাগ ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে এবং পরবর্তীতে লাঠিচার্জ করে।সংঘর্ষে ভূমিহীন পরিবারের ৬ জন এবং বনবিভাগের দুইজন আহত হন। আহতরা হলেন, আহমদ নবী (৬৫), জাহানারা বেগম (৫০), কহিনুর আক্তার (৪০), ইয়াকুব নবী (৫০), আয়েশা বেগম (৪২) ও নিশু আক্তার (২৫)। বনবিভাগের আহত দুই কর্মকর্তা হলেন শহিদুল (৩৭) ও নয়ন (৪৪)। আহত কহিনুর আক্তারের অবস্থা আশঙ্কাজনক।এছাড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় ইয়াকুব নবীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করছে কয়েকজন ফরেস্টার। পরে গুরুতর আহত আহমদ নবী ও ইয়াকুব নবীকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে পুলিশ আটক করে আদালতে পাঠায়।স্থানীয়রা জানান, ভোলা টিলায় শত বছর ধরে দুই শতাধিক ভূমিহীন পরিবার বসবাস করে আসছে। আশপাশ টিলাগুলো মিলিয়ে ২–৩ হাজার ঘরবাড়ি রয়েছে। এতগুলো বসতি অক্ষত রেখে মাত্র দুটি ঘর উচ্ছেদ করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।অনেকে অভিযোগ করেন “এটি বনবিভাগের বাহবা পাওয়ার চেষ্টা নাকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে বিব্রত করার ষড়যন্ত্র, তা তদন্ত করা প্রয়োজন।”আহমদ নবীর পুত্রবধূ সামিরা অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর বনবিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও গার্ডদের টাকা দিতে হয়েছে। ঘর নির্মাণের সময়ও ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় উচ্ছেদ পরিচালিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খুরুশিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান।রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। পরিবেশ উপদেষ্টা পাহাড় রক্ষায় কঠোর অবস্থানে আছেন। স্থানীয়দের হামলার মুখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি ও লাঠিচার্জ করা হয়েছে।”উচ্ছেদ হওয়া দুটি ঘরে চার ভাইয়ের পরিবার মিলিয়ে প্রায় ২০ সদস্য বসবাস করতেন। ঘর ভাঙার পর প্রচণ্ড শীতের মধ্যেই তাদের রাত কাটাতে হয়েছে খোলা আকাশের নিচে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
