মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৬৫ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় র্যাব ও ডিবি পুলিশের ৫ সদস্যসহ মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার(৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সামসুল আলম সরকার সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।এর আগে গত শনিবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শ্রীনগর ও ঢাকা জেলার সাভার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সামসুল আলম সরকার জানান, গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর মধ্যবাড্ডা এলাকা থেকে ডাকাতি হওয়া টাকার ৩৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে ডিবি পুলিশের ২ জন, র্যাবের ৩ জন সদস্য এবং মাইক্রোবাস চালক ও টাকা গচ্ছিত রেখে দেওয়া বাড়ির মালিকও রয়েছেন।এ ঘটনায় গ্রেফতার ৪ জনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং র্যাব সদস্যদের মধ্যে সেনাসদস্য থাকায় তাঁদের সেনাবাহিনীর হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।এর আগে শনিবার (৮ নভেম্বর) বলপূর্বক সম্পত্তি ছিনিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন ধারায় শ্রীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অজ্ঞাত ৮–৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী সিঙ্গাপুরপ্রবাসী ব্যবসায়ী আকাশ অসীম (৪৮)। তিনি ঢাকার দোহার উপজেলার পালামগঞ্জ এলাকার মৃত অনিল চন্দ্র দাসের ছেলে।মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আকাশ অসীম ও তার বড় ভাই বিমল চন্দ্র দাস হরি (৫৬) ভাঙারি স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করেন। গত ৬ নভেম্বর মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর বাজারের ‘শ্রীনগর স্বর্ণালয়’ দোকানে ২১ ক্যারেটের ৩৯ ভরি স্বর্ণ বিক্রি করেন। পরদিন (৭ নভেম্বর) সকালে বিক্রির ৬৫ লাখ টাকা নগদ গ্রহণ করে তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় জয়পাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়ীখাল ইউনিয়নের তিন দোকান বাজার এলাকায় পৌঁছালে নাম্বারবিহীন একটি সাদা মাইক্রোবাস তাদের অটো থামিয়ে দেয়। গাড়ি থেকে নেমে ৮-৯ জন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেন এবং বলেন, তাদের নামে মামলা রয়েছে। একজনের গায়ে ‘ডিবি’ লেখা জ্যাকেট ছিল এবং কোমরে অস্ত্র ঝুলছিল। পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা দুই ভাইকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পরে দুজনকে হাতকড়া পরিয়ে হাইয়েস মাইক্রোবাসে তুলে নেয়।এসময় ব্যবসায়ী আকাশ অসীমের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকার একটি ইনফিনিক্স মোবাইল এবং তার ভাইয়ের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকার একটি স্যামসাং ফোন ছিনিয়ে নেয় তারা। পরে আকাশ অসীমকে পদ্মা সেতুর উত্তর প্রান্তের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় এবং তার ভাই বিমল চন্দ্র দাসকে টোলপ্লাজার কাছে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।অভিযুক্তদের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে এবং তারা স্থানীয় উপভাষায় কথা বলছিল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
