বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে কার্যক্রম চালাচ্ছে ৮টিরও বেশি অবৈধ ইটভাটা, যার অধিকাংশেরই নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন। উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নেই রয়েছে অন্তত ৭টি অবৈধ ইটভাটা। আইন না মেনে এসব ইটভাটা গড়ে উঠেছে পাহাড় কেটে ও বনাঞ্চল দখল করে।স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি ইটভাটায় প্রতি বছর প্রায় ৮০ হাজার মন কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়। ঘুমধুমের ৭টি ইটভাটায় এই হিসাব অনুযায়ী শত শত মেট্রিক টন বনজ কাঠ জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। বনভূমি রক্ষার দায়িত্ব থাকলেও বন বিভাগের কার্যক্রম এখন প্রায় কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ। ফলে বনাঞ্চল ধীরে ধীরে বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়ছে।ইটভাটা মালিকরা প্রশাসনকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে এসব অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান হলেও, আসন্ন মৌসুমের জন্য এই ইটভাটাগুলো পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে।আইন অনুযায়ী, ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় কয়লা, এবং কাঁচামাল হিসেবে নদী বা জলাশয়ের মাটি। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, এইচ কেবি, জেএসবি, বিএইচবি, এফডিআর, কে আর ই, এএসএফ, এএসবি সহ এসব ইটভাটায় পাহাড় কেটে বনাঞ্চলের গাছ ও মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইটভাটার ধোঁয়া বাতাস ও আশপাশের পরিবেশ দূষিত করছে। অতিরিক্ত ইটবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কও নষ্ট হচ্ছে। পরিবেশবিদদের মতে, অবিলম্বে এসব ইটভাটা বন্ধ না করলে পার্বত্য এলাকার বন ও পাহাড় ধ্বংসের পাশাপাশি স্থানীয়দের জীবনযাপনও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে।নাইক্ষ্যংছড়ি সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, জনবল সংকটের কারণে এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “আইন ভঙ্গ করে চলমান কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নির্দেশ না মানলে খুব শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম জানিয়েছেন, পার্বত্য এলাকায় ইটভাটা করার কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ইতিমধ্যে জরিমানা করা হয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
